নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যৌন হেনস্তার মামলায় স্বস্তি পেলেন ভারতীয় কুস্তি নিয়ামক সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ। সোমবার দিল্লির নিম্ন আদালতে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার এই মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অপর অভিযুক্ত, ভারতের কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে মহিলা কুস্তিগিরদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা দায়ের হয়েছিল। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি এবং ৫০৬(১) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারী কুস্তিগিরদের মধ্যে ছিলেন বিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক পদকজয়ী কুস্তিগির। অভিযোগের প্রতিবাদে তাঁরা দীর্ঘদিন আন্দোলনও করেছিলেন। তবে মামলার শুনানিতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেয়। সেই কারণেই ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ ও বিনোদ তোমর দু’জনকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোেগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। বজরং পুনিয়া, সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগাট-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক কুস্তিগির তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন। ছয় মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন, তাঁদের মধ্যে একজন নাবালিকাও ছিলেন। ব্রিজভূষণের শাস্তির দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে দীর্ঘদিন অবস্থান-বিক্ষোভ করেন কুস্তিগিরেরা। আন্দোলনের জেরে তিনি ডব্লিউএফআই সভাপতির পদ ছাড়েন। পরে সঞ্জয় সিংহ সভাপতি হলেও, অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, পর্দার আড়াল থেকে এখনও সংস্থার নিয়ন্ত্রণ করেন ব্রিজভূষণই।
বেকসুর খালাস পাওয়ার পর ব্রিজভূষণ বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম, যদি অভিযোেগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি নিজেই ফাঁসিতে ঝুলব। আজ আমি বেকসুর খালাস পেয়েছি। এটা আমার এবং আমার সমর্থকদের জন্য সুখবর’।

