নিজস্ব প্রতিনিধি: দিন কয়েক আগে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের জন্য ভোটকুশলী সংস্থাকে দায়ী করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন অনুব্রত মণ্ডল। তখনই তৃণমূলে থাকবেন কিনা সেই বিষয়েও জল্পনা বাড়িয়েছিলেন। এবার ফের একবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বীরভূমের কেষ্ট।
তৃণমূল কংগ্রেস এখন স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহাদের আর একটি কালীঘাট তৃণমূল। সেই শিবিরের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুব্রতকে প্রশ্ন করা হয়, কোন তৃণমূলে রয়েছেন তিনি? উত্তরে কেষ্ট মণ্ডল বলেন, ‘আমি নতুন-পুরনো, পক্ষ-বিপক্ষ বুঝি না। আমি এখনও তৃণমূলেই আছি। সিপিএমকে খেদিয়ে তৃণমূলকে এনেছি। জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনে আছি। আমি এখনও পর্যন্ত তৃণমূলে।’ তবে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় আদৌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন? তার উত্তর দেননি অনুব্রত।
আরও পডুন: 'দুঃসময়ে পাশে ছিলেন শুধু শুভেন্দু দাদা', মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মহুয়া মৈত্র
আর এতেই জল্পনা বেড়ে গিয়েছে। বরাবরই স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল। কোনও রাখঢাক না রেখে কথা বলে ফেলেন। তার জন্য কম বিতর্কও হয়নি। কিন্তু তিনিই এখন হেয়ালি করছেন! তাহলে কী অনুব্রতের কাছে দিদি অর্থাৎ মমতার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল ভেঙে এখন খান খান। হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক-সাংসদ ছাড়া আর কেউ নেই মমতার পাশে। বেশিরভাগ নেতা-বিধায়করা ঝুঁকেছেন বিদ্রোহী শিবিরে। বীরভূমের তিন দাপুটে নেতা চন্দ্রনাথ সিং, কাজল শেখ ও আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ঋতব্রতদের শিবিরে। তবে কী মমতার হাত ছেড়ে অনুব্রতও সেই দিকেই হাঁটা দিলেন? কেষ্ট মণ্ডলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে জল্পনা বেড়েই চলেছে।
বীরভূমের তৃণমূলের জয়ের এতদিনের কাণ্ডারি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলই। তাঁর উপর ভরসা করে গোটা জেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অনুব্রতকে সেভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। কাজল শেখের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। ভোট মিটতেই অনুব্রতের নানা আচরণে অন্য সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক মহল।

