নিজস্ব প্রতিনিধি: অনুমতি ছাড়াই মাঠে ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরা, তাঁর কোমরে ধরে সেলফি তোলা, প্রভাব খাটিয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসি ইভেন্টের ২২ হাজার টিকিট হাতিয়ে নেওয়া, একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এর আগে মেসিকাণ্ডে অভিযোগে দুইবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে তলব করা হয়েছিল। তাতেই সাড়া দিয়ে আজ সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এই নিয়ে তিনবার থানায় হাজিরা দিলেন তিনি।
গতবছর ডিসেম্বরে সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির ইভেন্টকে ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, সেদিন মাঠে মেসি পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে ছবি তুলতে শুরু করেন সেলিব্রিটি, আমন্ত্রিত প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা এবং তাঁদের পরিবার। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিয়ম ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। একেবারে মেসির কোমর ধরে সেলফি তুলতে শুরু করেন। এছাড়া তিনি এমন কিছু কাণ্ড করেন যা কর্মসূচীর অংশ ছিল না। এই নিয়ে মাঠে মেসির টিমও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রভাবশালীদের ধাক্কাধাক্কির চোটে মেসির সতীর্থ সুয়ারেজের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে, রুদ্রিগো ডি পলের হাতে খিমচি লাগে কারও। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান। ফলে টিকিট কেটেও মেসিকে এক নজর দেখতে পারেননি ভক্তরা। উত্তেজনা শুরু হয়। টিকিটের টাকা ফেরতের দাবিতে ভক্তরা স্টেডিয়ামের মধ্যেই তাণ্ডব শুরু হয় ভক্তদের। ভাঙচুর চালায়।
মেসি ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। প্রশ্ন ওঠে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়েও। পরে জামিনে মুক্তি পান শতদ্রু। রাজ্যের পালাবদলের পর মেসিকাণ্ডে অরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন শতদ্রু। এরপরেই টিকিট ব্ল্যাক, আর্থিক প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগে অরূপকে তলব করে বিধাননগর থানার পুলিশ। তবে তাঁকে একাধিকবার তলবের নোটিস পাঠালেও তিনি এড়িয়ে যান। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনবার হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস। তদন্তে সহযোগিতা করছেন। কলকাতা হাইকোর্টের থেকেও রক্ষাকবচ পেয়েছেন। আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলেই নির্দেশ আদালতে। জানা গিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই মেসিকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়বে কলকাতা হাইকোর্টে। তার আগে আবারও অরূপকে তলব করা হল, আর তিনি আজ সকালেই থানায় হাজিরা দিলেন। এর আগে গত ১৮ এবং ২২ জুন পুলিশের তলবে হাজিরা দিয়েছিলেন অরূপ। গত ৬ মাস ধরে মেসিকাণ্ডের তদন্ত করছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।

