নিজস্ব প্রতিনিধি: মর্মান্তিক ঘটনা! জামাইয়ের হাতে শাশুড়ির মর্মান্তিক পরিণতি। হাঁসুয়া দিয়ে শাশুড়িকে এলোপাথাড়ি কোপ জামাইয়ের। গুরুতর আহত অবস্থায় শাশুড়িকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল বুধবার (৫ অগস্ট) রাতে নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কৃষ্ণগঞ্জের ভাজনঘাট বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি একটি এলাকায়।
চাঞ্চল্য ছড়াতেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত জামাই। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের খবর, ৭ বছর আগে পারিবারিক দেখাশোনার মাধ্যমে চন্দননগরের বাসিন্দা সুমিত্রা ঘোষের সঙ্গে গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা অমিত ঘোষের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অমিতের আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে থাকে। বেশিরভাগ সময়েই সে মদ খেয়ে বাড়ি ফেরে। শুধু তাই নয়, একাধিক মহিলার সঙ্গেও তাঁর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই সুমিত্রার উপর অমানসিক ও পাশবিক নির্যাতন চালাতেন অমিত। দিনের পর দিন এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন আগেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান সুমিত্রা। পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জ থানায় বধূ নির্যাতন এবং বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। সেই ঘটনার রেশ ধরেই গতকাল তথা বুধবার রাতে অমিত ঘোষ এবং তাঁর দাদা সমীর ঘোষ দেশি হাসুয়া নিয়ে সুমিত্রার দিদিমার ভাজনঘাটের বাড়িতে চড়াও হন। তাঁরা দুজনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
এরপর সুমিত্রাকে সামনে দেখেই তাঁকে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকেন অমিত। মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে যায় সুমিত্রার মা মৌমিতা। জামাইয়ের থেকে মেয়েকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সেই সময়ে হাঁসুয়া দিয়ে মৌমিতাকেও মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি কোপ মারে ‘নরপিশাচ’ জামাই। দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। আর হাঁসুয়া ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অমিত। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মৌমিতা ও সুমিত্রাকে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা করে সুমিত্রাকে ছেড়ে দেওয়া হয় আর মৌমিতার মাথায় কয়েকটি সেলাই পড়ে। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

