নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কানপুরে সাইবার প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। অভিনব কৌশলে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, গোটা প্রতারণার লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এক মুচির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত জানুয়ারি ২০২৬-এ। কানপুরের ওষুধ ব্যবসায়ী অমিত রাঠৌর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, একটি লিঙ্কের মাধ্যমে শেয়ার ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। সেই তদন্তেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার টাকা যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেটি দিল্লির ন্যাশনাল আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে খোলা অজয় নামে এক ব্যক্তির। পেশায় তিনি একজন মুচি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই এক অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ৬৫৬টি সাইবার প্রতারণার অভিযোগ। শুধু উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকেই প্রায় ২৬ কোটি টাকা এই অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে আনা হয়েছিল।
পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লালের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ব্যাঙ্ক ট্রেইলের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় গুলশন ও করণ নামে দুই অভিযুক্তকে। গুলশন পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান এবং করণ অটো পার্টসের ব্যবসাএছ তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই চক্র সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। টাকার ভাগ হতো ৬০-৪০ সূত্রে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চেকবই, এটিএম কার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোটা চক্রের মাস্টারমাইন্ডের খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে।

