নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নির্বাচন কমিশনে আমি নিজে ঝামেলা করতে যাব। স্পষ্ট অহংকার দিলেন শমিক ভট্টাচার্য(Samik Bhatatcharya)। তাঁর অভিযোগ, কমিশন যেসব জায়গায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে বিশেষত নদিয়া জেলায় সেখানে বেছে বেছে মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে।
এই ঘটনা মানা যাবে না।পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । এদিন রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অসীম বিশ্বাসের হয়ে নমিনেশন(Nomination) জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শমীক ভট্টাচার্য। এরপর সাংবাদিকদের সামনে শমীক কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ আনেন।
ফর্ম -৭ নিয়ে জালিয়াতি প্রসঙ্গে অভিযোগ, পুলিশ তাদের কাছ থেকে জালিয়াতি করে এবং ছিনতাই করে ফর্ম ৭ নিয়ে নিয়েছে। এআরও (ARO) এবং ইআরও (ERO)-রা ওই ফর্মগুলো সিস্টেমে আপলোড করেননি বলে তিনি দাবি করেন ।ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ প্রসঙ্গে শমিক জানান , নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু উদ্বান্তু, মতুয়া এবং আদিবাসী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যেসব এলাকায় বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে সেখানে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিন তৃণমূলকে তোপ দেগে তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ অন্যান্য সাংসদ ,সদস্যদের নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার বিষয়টিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওটা ওদের ব্যাপার। নির্বাচন কমিশন কোনো সাংবিধানিক সংস্থা নয় যে শুধু ওদের কথাই শুনবে।”ইলেকশন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানান যে, বিজেপিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।শমীক আরও জানান , কেন বারবার বিজেপি প্রার্থীদের বা জয়ী প্রার্থীদের নেতৃত্বাধীন এলাকায় ভোটের হিসেবে গরমিল হচ্ছে? তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

