নিজস্ব প্রতিনিধি: খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি, খাবারের ফুটপাথের দোকানে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য দফতর। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন সভাঘরে বৈঠকে জেলায় জেলায় খাদ্য সুরক্ষা মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ফুড সেফটি সপ্তাহ।
এবার সেই অভিযানের অংশ হিসেবে, খাদ্য সুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হল ভদ্রেশ্বরের একটি বেকারি। এদিন এই অভিযানে অংশ হয়েছিলেন, হুগলি জেলা সাস্থ্য দফতরের ফুড সেফটি আধিকারিকরা, পুরসভার ইও ও ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ। প্রথমে তারা ভদ্রেশ্বরের নামি মিষ্টির দোকান ও কারখানায় অভিযান চালান। কিছু খাবারের কারখানায় চিটচিটে তেল কালি দেখে তাঁদের এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয় পরিষ্কারের জন্যে। এরপরেই একটি বেকারি কারখানায় ঢুকে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান আধিকারিকরা।
যেখানে খাদ্য সুরক্ষার লেশ মাত্র ছিল না। মাছি ভনভন করছে খাবারে। নিয়ম মতো কারিগরদের হাতে গ্লাভস নেই, মুখে মাস্ক নেই, মাথায় টুপি নেই। বিস্কুট তৈরিতে ডিম ব্যবহার করলেও প্যাকেটে তাঁর উল্লেখ নেই। ভাঁটি চলছে কিন্তু লাইসেন্স নেই। ঘরে নোংরা ঝুলে ভর্তি। তার মধ্যেই তৈরি হচ্ছে বিস্কুট টোস্ট পাউরুটি। ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর রঙ। এরপরে আধিকারিকরা পরীক্ষার জন্য ওই বেকারি থেকে বিস্কুটের স্যাম্পেল নেন। গাইড লাইন মানতে হবে বলে জানিয়ে দেন। আপাতত বিস্কুটের পরীক্ষার রিপোর্ট না বেরোনো পর্যন্ত বেকারি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করে কারখানা খোলা যাবে না বলেও নির্দেশ দেন ফুড সেফটি আধিকারিকরা। তবে বেকারির মালিক জানিয়েছেন, এবার থেকে নির্দেশ মেনে চলবেন। কারিগররাও খাদ্য সুরক্ষায় খামতি আছে, তা মেনে নেন।
এদিকে আজ মধ্যমগ্রামের স্টার মলের একাধিক রেস্তোরাঁয় হানা দিয়েছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। ফাঙ্গাস ধরা মাংস ফ্রিজে রাখার অভিযোগ এক রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি বাদুড়িয়ার এক নামি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পচা মাংস রাখার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে খাদ্য দফতর। রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি খাবার পরিবেশন বিষাক্ত, যাতে ক্ষতি হতে পারে গ্রাহকদের। এমন একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যজুড়ে রেস্তোরাঁগুলিতে হানা দিচ্ছে পুলিশ, খাদ্য দফতরের কর্মীরা।

