নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানের দিকে যাতে তারেক রহমান সরকার ঝুঁকে না পড়ে তার জন্য কোমর কষে ঝাঁপিয়েছে মোদি সরকার। জ্বালানি সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পেতে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারই (৩০ এপ্রিল) অসমের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে এ নিয়ে ৪৭ হাজার টন ডিজেল পাঠাল মোদি সরকার।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশ। ওই জ্বালানি সঙ্কট থেকে রেহাই পেতে নয়াদিল্লির কাছে হাত পেতেছে তারেক রহমান সরকার। গত মার্চ মাসে অসমের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে কয়েক দফায় ২২ হাজার টন ডিজেল এসেছিল। এপ্রিলে তা বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ডিলার। তার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে পার্বতীপুর ডিপোতে।
মোল্লা ইউনূসের জমানায় ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতারাও প্রকাশ্যে দিল্লির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এমনকি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভি রাজধানী ঢাকার প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে দিল্লি বিরোধী জেহাদে সামিল হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষই দিল্লিকে শত্রু মনে করে। ভারত বিদ্বেষ চরমে পৌঁছেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্লোগান তুলেছিলেন, 'দিল্লি, পিন্ডি নয়, ঢাকা।' অথচ সেই ভারত বিদ্বেষী বাংলাদেশকেই লাগাতার ডিজেল সরবরাহ করে চলেছে মোদি সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের ডিজেল সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ভারত ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল পাঠাবে বাংলাদেশকে। এখন যে ডিজেল আসছে তা ওই চুক্তি অনুযায়ীই।' বাংলাদেশের এক প্রাক্তন কূটনীতিবিদের মতে, ‘দিল্লির ডিজেল পাঠানোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি জুজু কাজ করছে। মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের মতো তারেক রহমানের সরকার যাতে ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়ে, তার জন্য মোদি সরকার লাগাতার ডিজেল পাঠিয়ে যাচ্ছে।'

