নিজস্ব প্রতিনিধি: পাকিস্তানের হয়ে গোপনে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল এক ব্যক্তি বলে অভিযোগ। খাস কলকাতায় বসে এই কাজ করছিল বলে অভিযোগ। আর শহরের বুকে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্রের হদিশ পেল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। পাকিস্তানের হয়ে গোপনে গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার মারাত্মক অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল এনআইএ।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তি কলকাতার বাসিন্দা। ধৃতের এক পুরনো অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। ২০০৫ সালে পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল এই ব্যক্তি।
এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম জাফর রিয়াজ। রিয়াজের গতিবিধির উপর নজর রেখেছিল এনআইএ। আর একটি লুক আউট নোটিস জারি করেছিল। আইন অনুযায়ী রিয়াজকে খাতায়-কলমে 'পলাতক অপরাধী' হিসেবে ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়াও চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। এবার এনআইএ'র র্যাডারে থাকা জাফর ধরা পড়ে গেল। এনআইএ'র নিখুঁত জালে ধরা পড়ল জাফর রিয়াজ। জাফরের পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে। তার স্ত্রী একজন পাকিস্তানের নাগরিক এবং তার সন্তানও পাকিস্তানেরই নাগরিক। ২০০৫ সালের পরে জাফর রিয়াজ বারবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত শুরু করে।
এই যাতায়াত দেখে সন্দেহ হয় এনআইএ'র। তখন থেকে কড়া নজর রাখা হচ্ছিল জাফর রিয়াজের উপর। গত কয়েক বছর ধরে জাফর পাকাপাকিভাবে পাকিস্তানেই থাকছিল। সেখানে থাকাকালীন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে জাফর রিয়াজের যোগাযোগ হয়। পাক গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে রিয়াজকে মোটা অঙ্কের টাকা এবং ইসলামাবাদের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আর জাফর টাকার লোভে এবং নাগরিকত্বের আশায় ভারতের একাধিক সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার করতে শুরু করে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এরপর কলকাতায় বসে এই কাজ করে চলছিল জাফর রিয়াজ। তাকে ধরে এখন বাকি চরদের নাগাল পেতে চাইছে এনআইএ। এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজের সঙ্গে রাজস্থানের মোতিরাম জাঠের নিয়মিত যোগাযোগ রাখত পাক হ্যান্ডলাররা। মোতিরামও গোপনে ভারতের নানা তথ্য ইসলামাবাদের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দিত। ইতিমধ্যেই মোতিরামের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই গুপ্তচর চক্রের জাল যে শুধু কলকাতা বা রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ এমন নয়, এসব আরও অনেক জায়গায় বিস্তৃত বলে প্রায় নিশ্চিত এনআইএ।

