নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিরামিষ রান্নায় পনিরের জনপ্রিয়তা অনেক। পনিরের ডালনা, পনির বাটার মশালা বা নানা পদে এটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ভেজাল বা সিন্থেটিক পনিরের রমরমা বেড়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি-দাতিয়া হাইওয়েতে খাদ্য সুরক্ষা দফতর বিপুল পরিমাণ ভেজাল পনির বাজেয়াপ্ত করেছে।
পরীক্ষায় জানা গেছে, এই পনিরে গুঁড়ো দুধ, পাম অয়েল, স্টার্চ এমনকি ডিটারজেন্ট ও ইউরিয়ার মতো ক্ষতিকর উপাদানও মেশানো হয়।
এই ধরনের পনির শরীরে গেলে দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। তাই খাবারের আগে পনির খাঁটি কি না তা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ঘরেই সহজ কিছু উপায়ে তা যাচাই করা যায়।
খাঁটি পনির চেনার সহজ উপায়
১. আয়োডিন পরীক্ষা:
এক টুকরো পনির জলে ৫ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করুন। তারপর কয়েক ফোঁটা আয়োডিন টিংচার দিন। রঙ নীল হয়ে গেলে বুঝবেন এতে স্টার্চ রয়েছে।
২. চাপ দিয়ে পরীক্ষা:
পনির হাতের তালুতে নিয়ে চাপ দিন। খাঁটি পনির সহজে ভাঙবে না, কিন্তু ভেজাল পনির চাপ দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাবে।
৩. গন্ধে বোঝা যায়:
আসল পনিরে মিষ্টি দুধের গন্ধ থাকে। টক বা রাসায়নিক গন্ধ এলে তা না কেনাই ভালো।
৪. ডিটারজেন্ট পরীক্ষাঃ
ফুটানো পনিরে অড়হর ডালের গুঁড়ো বা সোয়াবিন পাউডার ছড়িয়ে ১০ মিনিট রাখুন। রঙ লালচে হলে বুঝবেন এতে ডিটারজেন্ট বা ইউরিয়া আছে।
৫. স্বাদে পার্থক্য:
খাঁটি পনির মুখে দিলে নরম ও দুধের স্বাদ পাওয়া যায়। ভেজাল পনির চিবোতে রবারের মতো লাগে।
৬. ভাজার সময় লক্ষ করুন:
আসল পনির ভাজলে হালকা সোনালি রং হয়। ভেজাল পনির থেকে অস্বাভাবিক জল বেরোয়।
৭. কাটার সময় লক্ষণ:
খাঁটি পনির সহজে মসৃণভাবে কাটা যায়, কিন্তু নকল পনির কাটলে ছিবড়ে হয়ে যায়।
সচেতন থাকলে ভেজাল খাবার থেকে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তাই বাজার থেকে পনির কিনে আনার পর পরীক্ষা করে তবেই ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে বাড়িতেই পনির তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

