নিজস্ব প্রতিনিধি: বীরভূমের পাথর ব্যবসাকে ঘিরে তদন্তে আরও বড় সাফল্য পেল পুলিশ। রবিবার রাতে টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আর্থিক লেনদেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বীরভূমের ক্রিমিনাল সিন্ডিকেটের সিংহভাগ সামলাতেন ধৃত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ প্রায় ২৮ কোটি টাকা উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন সূত্র মেলে।
সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সীতেশ প্রামাণিকের খোঁজ পান। রবিবার সন্ধ্যায় মহম্মদবাজার থানার একটি বিশেষ দল সীতেশের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। পড়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টুলু মণ্ডলের বিস্তৃত আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সীতেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। টুলুর একাধিক ম্যানেজারের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী ছিলেন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে টাকার লেনদেন, ব্যবসার বিস্তার এবং নেটওয়ার্ক পরিচালনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের মতে, সীতেশকে জেরা করে টুলু মণ্ডলের অবস্থান, আর্থিক সাম্রাজ্য এবং তাঁর সহযোগীদের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেই কারণেই তাঁকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার করা হয়েছে। 'পাথর সম্রাট' টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের আয়মাপাড়া গ্রামে টুলুর পাথর খাদানের ম্যানেজার ইফাজুল হকের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত শুরু হওয়ার পর মাত্র তিন দিন আগে ওই বাড়িতে ফিরেছিলেন ইফাজুল হক। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গ্রেফতার এড়াতেই ইফাজুল হক আত্মগোপন করেছেন। তাঁর খোঁজে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। টুলু মণ্ডলের আর্থিক লেনদেন এবং পাথর ব্যবসার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতেই ইফাজুলকে খুঁজছে পুলিশ।

