নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিফলে গেল অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অর্ধশতরান। একাই ব্যাট হাতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে দিলেন সমীর রিজভি। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলেছিলেন সূর্যকুমার যাদবরা। জবাবে সমীর রিজভির ঝাঁ-চকচকে ৯০ রানের ইনিংসের দৌলতে ১৮.১ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় হাসিল করে দিল্লি ক্যাপিটালস।
টানা দুই ম্যাচ জিতে আইপিএলের শীর্ষেই রইল অক্ষর পটেলের দল।
টস জিতে এদিন প্রথমে মুম্বইকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। চোটের কারণে এদিন খেলতে পারেননি মুম্বইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য। তাঁর স্থলে অধিনায়কত্ব করেন সূর্যকুমার যাদব। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভাল হয়নি মুম্বইয়ের। তৃতীয় ওভারেই জোড়া ধাক্কা দেন দিল্লির মুকেশ কুমার। তৃতীয় বলে ফিরিয়ে দেন রায়ান রিকেলটনকে। আর পঞ্চম বলে শূন্য রানে ফেরান তিলক বর্মাকে। জোড়া ধাক্কা খেয়ে খানিকটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায় মুম্বই শিবির। পাওয়ার প্লে শেষে মুম্বইয়ের রান দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪১।
তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে রোহিত শর্মা ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব মাথা ঠান্ডা করে খেলে দলকে এগিয়ে নিয়ে থাকেন। অকারণে কোনও ঝুঁকি নেননি দুই পোড়খাওয়া ব্যাটার। দুজনে ৩৫ বলেই ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দশম ওভারে রোহিতকে (২৬ বলে ৩৫) ফেরান অক্ষর পটেল। পাঁচ নম্বরে নামা শেরফানে রাদারফোর্ড (৫) বেশিদূর এগোতে পারেননি। তাঁকে ফেরান বিপরাজ নিগম। ৮৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে মুম্বই। এর পর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক সূর্য। পঞ্চম উইকেটে নমন ধীরকে সঙ্গে নিয়ে স্কোর বোর্ড সচল রাখেন। ১৪ ওভারে ১০০ রানের গণ্ডি আতিক্রম করে মুম্বই। মাথা ঠান্ডা করে খেলে ৩৫ বলে অর্ধশতরান করেন সূর্য। তবে অর্ধশতরানের পরেই লুঙ্গি এনগিডির বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান। নমন ধীর ফেরেন ২৯ বলে ২৮ রান করে। মিচেল স্যান্টনার ও করবিন বস দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৬২ রানেই থমকে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস। স্যান্টনার ১৮ ও বস ১১ রানে অপরাজিত থাকেন।
জয়ের জন্য ১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। আগের ম্যাচে শূন্য রানে ফেরা লোকেশ রাহুল এদিনও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। তিনি ফেরেন মাত্র এক রান করে। দ্বিতীয় ওভারে অযথা তাড়াহুড়ো করে রান নিতে গিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন নীতীশ রানা। পর পর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি। তৃতীয় ওভারেই ফের উইকেট হারাতে যাচ্ছিল দিল্লি। পাথুম নিশাঙ্কার (তখন ১১ রানে ব্যাট করছিলেন) ক্যাচ মিস করেন দীপক চহার। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে পাথুম নিশাঙ্কা ও সমীর রিজভি ঠান্ডা মাথায় খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা চালান। পাওয়ার প্লে শেষে দিল্লির রান দাঁড়ায় দুই উইকেটে ৪২। নবম ওভারে ফের পাথুম নিশাঙ্কার ক্যাচ ফেলে দেন নমন ধীর। দু'দুবার জীবন পেলেও অর্ধশতরানের আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় দিল্লির ওপেনার। আউট হওয়ার আগে করেন ২৯ বলে ৪৪ রান।
তবে নিশাঙ্কা ফিরে গেলেও খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হয়নি দিল্লিকে। তার কারণ সমীর রিজভি। সতীর্থ ডেভিড মিলারকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল, অনায়াসেই শতরান পেয়ে যাবেন প্রথম ম্যাচে ৭০ রান করা ব্যাটার। তবে আগ্রাসী মেজাজে খেলতে গিয়ে ১৭তম ওভারে তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সমীর (৯০)। ততক্ষণে দেড়শো রানের গণ্ডি অতিক্রম করে গিয়েছে দিল্লি। পঞ্চম উইকেটে জুটি বেঁধে মিলার ও ত্রিস্তান স্টাবস হেসেখেলেই জয় এনে দেন। মিলার ২১ ও স্টাবস ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

