আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভাগ্যিস দাবানলের মতো ঘটনা ঘটেছিল। না হলে কে জানত মাটির নিচে লুকানো রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোলাবারুদ। না কোনও গল্প নয়। এমনটাই ঘটেছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর লে পোর্জে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত লে পোর্জ গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৪০০টি গোলা ও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভয়াবহ আগুনের তাপে এসব বিস্ফোরক সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'বিবিসি' জানিয়েছে, সম্প্রতি ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছিল ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর লে পোর্জে। দাবানলে জঙ্গলেরব পাশাপাশি একাধিক বসতভিটেও ভস্মীভূত হয়। শুরুর দিকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ধারণা করেছিলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এমনটি ঘটছে। তবে স্থানীয় দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পিছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ফেলে যাওয়া গোলাবারুদগুলো থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
লে পোর্জ গ্রামের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে গোলাবারুদের গুদাম ছিল, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবহিত ছিল না। বিস্ফোরণের সময় গোলাগুলো বিভিন্ন দিকে ছিটকে পড়ে। এমনকি একটি গোলা একটি বাড়ির ভেতর দিয়েও চলে যায়। দাবানলের দ্বিতীয় রাতে ১০০ টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ওই ভয়ঙ্কর শব্দ অতীতে কখনও শোনেননি সিংহভাগ বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে জার্মান ও ফরাসি উভয় পক্ষের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ছিল। মর্টার শেলের পাশাপাশি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী গোলাও ছিল। প্রায় ১০ দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর ভয়াবহ দাবানল বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন। তবে কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। আগুনে ১৮০ টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।’

