নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রেমের বিয়ের ৩ বছরের মধ্যে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য নদিয়ার হরিণঘাটায়। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ। তরুণীর বাবা-মায়ের দাবি, পণের দাবিতে তাঁদের মেয়েকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির দাবি, প্রতি তাঁদের বউমা আত্মঘাতী হয়েছেন।
ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবার সূত্রের খবর, মৃত তরুণীর নাম বৃষ্টি পাড়ুই। তিনি হরিণঘাটা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
মাত্র কয়েক মাস প্রেমের পর পাড়ার ছেলে সুজিত ভৌমিকের বিয়ে হয় বৃষ্টির। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁদের চার হাত এক হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বৃষ্টিকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্যে চাপ দিত স্বামী আর তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমনটাও জানা গিয়েছে, বিয়ের পর মুখোশ খুলে যায় সুজিতের। মদ্যপ অবস্থায় প্রায়শই বৃষ্টির গায়ে হাত তুলেছে সে। এমনকি বৃষ্টিকে আত্মীয়দের সঙ্গে কথাও বলতে দিত না তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের উপর নির্মম অত্যাচারের খবর পেয়ে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্যে গতকাল সুজিতদের বাড়ি গিয়েছিলেন বৃষ্টির বাবা কৃষ্ণ পাড়ুই। কিন্তু বাবার সামনেই বৃষ্টির গায়ে সুজিত হাত তোলে বলে অভিযোগ। বাদানুবাদের পর বাড়িতে ফিরে যান কৃষ্ণবাবু। মেয়েকে ছাড়েনি।
এরপরেই আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বৃষ্টির পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁদের মেয়ে হরিণঘাটা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছতেই জানতে পারেন, বৃষ্টি মারা গিয়েছে। মেয়েকে শেষ দেখাও দেখতে পারেননি তাঁরা। দেহ হাসপাতালেই পড়ে রয়েছে। কিন্তু তখন সুজিত বা তাঁর পরিবারকে হাসপাতালে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ বৃষ্টির পরিবারের। সুজিতের দাবি, বৃষ্টি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। পরিবারে সদস্যরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বৃষ্টির স্বামী সুজিত ভৌমিককে আটক করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সুজিতের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

