নিজস্বপ্রতিনিধি: আলমারির কোণে পড়ে থাকা একটি পুরনো টি শার্ট বা জিন্সের শেষ গন্তব্য কি ডাস্টবিন? অনেকেরই উত্তর হবে 'হ্যাঁ'। কিন্তু বাস্তবে ভারতের হরিয়ানার পানিপথে বাতিল কাপড় নতুন রূপ পায় কম্বল, কার্পেট, কুশন কভার, ম্যাট কিংবা সুতোয়। এই কারণেই পানিপথকে এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ 'টেক্সটাইল রিসাইক্লিং হাব' বলা হয়।
এই রিসাইক্লিং শিল্প একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বস্ত্রবর্জ্যকে ল্যান্ডফিলে যাওয়া থেকে রক্ষা করছে, তেমনই হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানেরও উৎস। ভারতের টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় পানিপথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দেশের সার্কুলার ইকোনমির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে আসা টন টন ব্যবহৃত পোশাক এখানে প্রথমে আলাদা করা হয়। যেগুলি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য, সেগুলি অন্য বাজারে পাঠানো হয়। আর বাকি পোশাক থেকে বোতাম, চেন ও অন্যান্য অংশ খুলে ফেলে কাপড়কে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। এই রঙ ভিত্তিক বাছাইয়ের একটি বৃহত্তর উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি রঞ্জন ও ব্লিচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দূর করতে সাহায্য করে যা বস্ত্র উৎপাদনের অন্যতম দূষণকারী একটি পর্যায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক ও জলের প্রয়োজন হয়। এরপর বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে সেই কাপড়কে তন্তুতে পরিণত করে আবার সুতো তৈরি করা হয়। পুনর্ব্যবহৃত তন্তুগুলোকে সংকুচিত করে গাঁট বাঁধা হয় এবং এরপর সেগুলিকে স্পিনিং বিভাগে পাঠানো হয়। এখানে, এগুলো একাধিক পরিশোধন ও মিশ্রণকারী মেশিনের মধ্যে দিয়ে যায়, যেগুলো অশুদ্ধি দূর করে, তন্তুগুলোকে বিন্যস্ত করে এবং সেগুলোকে দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন সুতায় রূপান্তরিত করে। সেই সুতো দিয়েই তৈরি হয় নতুন গৃহসজ্জার সামগ্রী, যা দেশ ও বিদেশের বাজারে বিক্রি হয়।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে উদ্বেগও। পরিবেশবিদ ও শ্রমিক অধিকার কর্মীদের একাংশের দাবি, কিছু কারখানায় ধুলো, সূক্ষ্ম তন্তু এবং রাসায়নিকের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে দূষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ভারতের বস্ত্র মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ টেক্সটাইল বর্জ্যই দেশীয় উৎস থেকে আসে এবং শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব ও নিয়ন্ত্রিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একদিকে ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রমবর্ধমান বর্জ্য, অন্যদিকে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদের নতুন ব্যবহার এই দুইয়ের সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে পানিপথ।

