নিজস্ব প্রতিনিধি: প্লাস্টিক এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খাবারের প্যাকেট থেকে পানীয়ের বোতল প্রায় সর্বত্রই রয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। কিন্তু জানেন কি এই প্লাস্টিক ভেঙে তৈরি হওয়া অতি ক্ষুদ্র কণা শরীরে ঢুকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে? ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক।
খাবার, জল এবং বাতাসের মাধ্যমে অজান্তেই এই কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে প্রবেশের পর এসব কণা প্রদাহ বা অন্যান্য জৈবিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রদাহ ও অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক, যেমন বিসফেনল-এ ও থ্যালেটস, হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশ থেকে পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন এনে সংস্পর্শ কমানো যেতে পারে।
প্লাস্টিকের বদলে কাচ বা স্টিল: জল ও খাবার রাখার জন্য কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।
গরম খাবার প্লাস্টিকে নয়: প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা এবং প্লাস্টিকের পাত্রে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা এড়িয়ে চলুন।
সিন্থেটিক কাপড়ের ব্যবহার কমান: সম্ভব হলে সুতি, লিনেন বা অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক বেছে নিতে পারেন।
ঘর পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে ঘর পরিষ্কার করা এবং ধুলো জমতে না দেওয়া বাতাসে ভাসমান কণা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। বোতলজাত জল , প্রক্রিয়াজাত খাবার, মাছ, প্রক্রিয়াজাত নুন এবং কিছু টি-ব্যাগেও এই ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু খাবার নয়, শ্বাস নেওয়ার সময়ও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। সিন্থেটিক পোশাক, কার্পেট, আসবাবের ধুলো এবং যানবাহনের টায়ারের ক্ষয় থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কণা ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে।

