নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সম্পত্তির লোভে সম্পর্কের সব বন্ধন ভেঙে পড়ার এক শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এল গুজরাটে। ঘুমন্ত বাবা-মাকে খুন করে, প্রমাণ লোপাট করতে দেহে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। ভাবনগরের তালাজা এলাকায় এই নির্মম কাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তালাজার রামটেকরি এলাকায় বসবাসকারী কিশোরভাই বৈঠা ও তার স্ত্রী রেখাবেনের অর্ধদগ্ধ দেহ তাদের শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে ঘটনাটি অগ্নিকাণ্ডে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই মনে করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোের্ট সামনে আসতেই বদলে যায় গোটা ছবিটা। রিপোর্টে জানা যায়, কিশোরভাইকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে, আর রেখাবেনকেও অন্যভাবে হত্যা করা হয়েছে।তদন্তে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত দম্পতির ছেলে বিমল ও তার স্ত্রী হেতালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে। কিশোরভাইয়ের ভগ্নীপতি রাজেশভাই অভিযোেগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি জানান-বিমল দীর্ঘদিন ধরে বাবার কাছে টাকা দাবি করছিল। ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় বাড়ি, দোকান ও মায়ের গয়না বিক্রি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল সে। এই নিয়েই পরিবারে প্রায়শই অশান্তি চলত।
আরও পড়ুনঃ রক্ষকই ভক্ষক! তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার কনস্টেবল
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন রাতে বিমল ও তার স্ত্রী পরিকল্পনা করে বাড়িতে আসে। খুনের পর তারা বাইরে গিয়ে স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করে এবং পরে ‘আগুন লাগার’ খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। এই পুরো ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ১২ দিনের তদন্তের পর পুলিশ বিমল, তার স্ত্রী এবং আরও দু’জন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। গুজরাত পুলিশ জানিয়েছে, খুন, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

