নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতে মামলা বিচারাধীন। কিন্তু মামলা মেটার আগেই জমিতে ফ্ল্যাট তুলে ফেলেছেন প্রোমোটার। শুধু তাই নয়, ক্রেতাদের অন্ধকারে রেখে সেই ফ্ল্যাট চড়া দামে বিক্রিও করে ফেলেছেন। জমি সংক্রান্ত মামলার কথা ঘুণাক্ষরেও ক্রেতাদের জানতে দেননি প্রোমোটার। তিন বছর ধরে ফ্ল্যাটে গিয়ে বসবাস করছেন বাসিন্দারা।
পাত্তা নেই ওই প্রোমোটারের। বিষয়টি জানতে পেরেই বাসিন্দাদের শীঘ্রই ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ ধরিয়েছে কলকাতা পুরসভা। যা দেখে রীতিমতো মাথায় হাত বাসিন্দাদের। এই নিয়ে সকাল থেকেই হুলস্থুল কাণ্ড পাইকপাড়ায়।
মঙ্গলবার (৪ অগস্ট) সকালে পুরসভার তরফে ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ টাঙানো হয়। পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। ওই ফ্ল্যাটের নিচের দোকানগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে পুরসভা থেকে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দোকান সিল করেও দেওয়া হয়। তাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন ফ্ল্যাট বাসিন্দারা। পুলিশকে দেখেই বিক্ষোভ আরও চরমে ওঠে তাঁদের। কেউ কেউ পুলিশের পায়ে পড়ে দাবি করেন, ফ্ল্যাট ছাড়ার জন্যে বিন্দুমাত্র সময় দেওয়া হয়নি তাঁদের, এখন কোথায় যাবেন তাঁরা?
পুলিশের কথায়, ওই ফ্ল্যাটের জায়গায় একটি টালির বাড়ি ছিল। যেখানে তিন পুরুষের বসবাস ছিল। প্রায় দেড়শো বছরের ছিল। ১৯৮৬ সাল থেকে এই জমি নিয়ে মামলা চলছে। চলতি বছরের জুন মাসে মামলায় জিতে যান মালিকপক্ষ। কিন্তু মামলা চলাকালীনই ২০২২ সালে ওখানে ফ্ল্যাট তৈরি করেন প্রোমোটার। ফ্ল্যাট কিনে ঢুকে যাওয়ার পর প্রোমোটার জানান, এই জমি নিয়ে মামলা চলছে। সেই কারণেই পুরসভা থেকে নোটিশ ধরানো হয়েছে বাসিন্দাদের। জানা গিয়েছে, এই ফ্ল্যাটে ৩০টি পরিবার থাকে। ২৩টি পরিবার জীবনের সর্বস্ব পুঁজি দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। বাসিন্দাদের দাবি, ৮-৯ মাস আগে শেষ প্রোমোটারের দেখা পাওয়া গিয়েছিল এলাকায়। তারপর থেকে তিনি পালিয়ে পালিয়েই বেড়াচ্ছেন।

