নিজস্ব প্রতিনিধিঃআধুনিক ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে এমন রেসিপির চাহিদা যা একইসঙ্গে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। অনেকেই মনে করেন ডায়েট মেনে চলতে গেলে খাবারের স্বাদে ছাড় দিতে হয়, কিন্তু এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে দিচ্ছে 'দই ক্যাপসিকাম চিকেন'।
এক পুষ্টিবিদের শেয়ার করা এই রেসিপিটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, কম কার্বোহাইড্রেট।
উপকরণ
বোনলেস চিকেন
আদা-রসুন বাটা
মশলা (হলুদ গুঁড়ো, লাল লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, নুন,
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা ,চাট মশলা, কাসুরি মেথি)
পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম
ভাজা চিনাবাদামের গুঁড়ো
সর্ষের তেল,
ঘন দই
সামান্য মধু (ঐচ্ছিক),
কাঁচালঙ্কা এবং ধনেপাতা।
পদ্ধতি
প্রথমে চিকেন টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে একটি পাত্রে রাখতে হবে। তারপর তাতে আদা-রসুন বাটা, হলুদ, লাল লঙ্কা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো এবং নুন দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হয়। এই মেরিনেশন প্রক্রিয়াটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে চিকেনের ভিতরে মশলার স্বাদ ঢুকে যায়। এরপর একটি কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে তাতে মেরিনেট করা চিকেন দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে হয়। ধীরে ধীরে চিকেন সেদ্ধ হতে থাকে ।চিকেন প্রায় রান্না হয়ে এলে তাতে কাটা পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম যোগ করা হয়। এই পর্যায়ে খুব বেশি সময় রান্না করা প্রয়োজন নেই । এরপর তাতে ভাজা চিনাবাদামের গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, গরম মশলা এবং কাসুরি মেথি মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি আসে শেষে। গ্যাস বন্ধ করার পর তাতে ধীরে ধীরে ফেটানো দই যোগ করা হয়। খেয়াল রাখতে হবে, দই যেন উচ্চ তাপে না পড়ে, তাহলে তা ফেটে যেতে পারে। তাই গ্যাস বন্ধ করে বা খুব কম আঁচে দই মেশানোই শ্রেয়। এরপর তাতে চাট মশলা ও সামান্য মধু মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা এই পদে এক অনন্য স্বাদ এনে দেয়। সবশেষে উপরে কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা এবং অতিরিক্ত চিনাবাদাম ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করা হয়। এটি রুটি, পরোটা বা এমনকি শুধু স্যালাডের সঙ্গেও খাওয়া যায়।
'দই ক্যাপসিকাম চিকেন' এমন একটি রেসিপি যা আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য একেবারে উপযুক্ত। এটি যেমন সহজে তৈরি করা যায়, তেমনই এতে রয়েছে স্বাদ ও পুষ্টির নিখুঁত সমন্বয়। অতিরিক্ত তেল বা ক্রিম ছাড়াই যারা প্রতিদিনের খাবারে নতুন কিছু যোগ করতে চান বা স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার বিকল্প। স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টিগুণ-সব মিলিয়ে এই পদটি যে কোনও ডায়েট চার্টে সহজেই জায়গা করে নিতে পারে।

