নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কোভিড-১৯ পরীক্ষায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে সরব হল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ, প্রশিক্ষণহীন কর্মীদের দিয়ে করোনা পরীক্ষার কাজ করানো হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছে এনএমসির এথিক্স অ্যান্ড মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বোর্ড।
সম্প্রতি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, করোনা পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো কিট ও আর্থিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাংলার জন্য বরাদ্দ হওয়া কোভিড টেস্ট কিটের বড় অংশ ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। ফলে রাজ্যের অন্যান্য এলাকার মানুষ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, একদিনে ডায়মন্ড হারবারে ৫৫ হাজার ২০৩ জনের র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়েছিল মাত্র ২৬ জন চিকিৎসককে দিয়ে। ওই দিন গোটা পশ্চিমবঙ্গে মোট করোনা পরীক্ষা হয়েছিল ৭১ হাজার ৭৯২টি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা বাস্তবে সম্ভব নয় এবং পরীক্ষার প্রক্রিয়াতেও গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সিএমওএইচ ও বিএমওএইচ-দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এনএমসি সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের হাতে তুলে দিয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

