নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দাঁতের উজ্জ্বল সাদা হাসি আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা ধূমপানের কারণে অনেকেরই দাঁতে হলুদ দাগ পড়ে যায়। নিয়মিত চা-কফি পান করা, ঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করা কিংবা বয়সের প্রভাবেও দাঁতের রঙ বদলে যেতে পারে। অনেকেই এই সমস্যার সমাধানে ডেন্টিস্টের কাছে স্কেলিং বা হোয়াইটনিং করান।
তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললেও ধীরে ধীরে দাঁতের হলুদ ভাব কমানো সম্ভব। সঠিক যত্ন নিলে দাঁত আবারও অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। নিচে রইল এমন কয়েকটি সহজ পদ্ধতি-
১. বেকিং সোডা ও লেবুর রস
বেকিং সোডা দাঁতের দাগ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এক চিমটি বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। দাঁতে লাগিয়ে এক মিনিট হালকা করে ব্রাশ করুন। এরপর ভালো করে কুলি করে নিন। সপ্তাহে এক-দু’বার ব্যবহার করলে দাঁতের দাগ কিছুটা কমতে পারে।
২. নারকেল তেল দিয়ে অয়েল পুলিং
আয়ুর্বেদে প্রচলিত একটি পদ্ধতি হল অয়েল পুলিং। সকালে খালি পেটে এক চামচ নারকেল তেল মুখে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট কুলকুচি করুন। এতে মুখের ব্যাকটেরিয়া কমে এবং দাঁত ধীরে ধীরে পরিষ্কার দেখাতে পারে।
৩. কমলার খোসা ব্যবহার
কমলার খোসায় থাকা ভিটামিন সি দাঁতের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। রাতে শোওয়ার আগে কমলার খোসার ভেতরের সাদা অংশ দাঁতে আলতো করে ঘষে নিন। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলে কিছুটা উপকার মিলতে পারে।
৪. স্ট্রবেরি ও বেকিং সোডা
স্ট্রবেরিতে থাকা ম্যালিক অ্যাসিড দাঁতের উপর জমে থাকা দাগ কমাতে সাহায্য করে। একটি স্ট্রবেরি চটকে তার সঙ্গে অল্প বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে দাঁতে লাগান। দুই-তিন মিনিট পর কুলি করে ফেলুন। তবে এটি বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়।
৫. আপেল ও গাজর খাওয়া
আপেল বা গাজরের মতো শক্ত ফল-সবজি চিবিয়ে খেলে দাঁতের উপর জমে থাকা প্লাক কমতে পারে। ফলে দাঁত তুলনামূলক পরিষ্কার দেখায়।
৬. নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লস
দিনে অন্তত দু’বার দাঁত ব্রাশ করা এবং ফ্লস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এতে দাঁতের ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া কমে এবং হলুদ দাগ পড়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া উপায়ে ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে। যদি দাঁতের দাগ দীর্ঘদিনের হয় বা সমস্যা বেশি হয়, তাহলে অবশ্যই দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

