Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
স্কুলে নেই বেঞ্চ-ডেস্ক-শৌচাগার! সাপের ভয়ে কুঁড়েঘরে চলছে পড়াশোনা, কোথায় জানেন?

স্কুলে নেই বেঞ্চ-ডেস্ক-শৌচাগার! সাপের ভয়ে কুঁড়েঘরে চলছে পড়াশোনা, কোথায় জানেন?

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের একবার সামনে এসেছে বিহারের সরকারি স্কুলের বেহাল অবস্থার ছবি। সরকারি স্কুলগুলোর উন্নতি, মডেল স্কুলে রূপান্তরিত করা এবং শিশুদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবি করা হয়েছে বারবার। কিন্তু, সমস্তিপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প বলছে।

এখানে শিশুরা কোনও স্থায়ী শ্রেণীকক্ষে নয়, বরং মেঝেতে বসে একটি কুঁড়েঘরের মতো ঘরে পড়াশোনা করতে বাধ্য হয়। সেখানে কোনও বেঞ্চ নেই, ডেস্ক নেই, এমনকি একটি ঠিকঠাক ব্ল্যাকবোর্ডও নেই। তাড়া করে বেড়ায় সাপের ভয়।

এখানেই শেষ নয় গ্রীষ্মকালে পাখা নষ্ট হলে খুদে শিশুরা তাদের খাতা-বই ঝাঁকিয়ে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করে। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়তে শুরু করে, যার ফলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য এই স্কুলে রয়েছে মাত্র দুটি ঘর। একটি ঘরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের একসঙ্গে পড়ানো হয়। অন্য ঘরটি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে একই জায়গায় একাধিক শ্রেণির পড়ুয়াকে সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন শিক্ষকরা। পর্যাপ্ত বেঞ্চ-ডেস্ক না থাকায় বহু শিশুকে মেঝেতে বসেই পড়াশোনা করতে হয়। স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য নেই কোনও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য এমন একটি মৌলিক পরিষেবা না থাকায় প্রশ্ন উঠছে স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে। এর মধ্যেই রয়েছে আরও বড় আতঙ্ক সাপ। স্থানীয়দের দাবি, স্কুলের আশপাশে মাঝেমধ্যেই সাপ দেখা যায়। ঝুপড়ি এবং খোলা পরিবেশের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।

এই স্কুলে পড়ুয়াদের বড় অংশই আশপাশের দলিত সম্প্রদায়ের। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির পক্ষে সন্তানদের দূরের স্কুলে পাঠানো কঠিন। তাই স্কুলটি অন্যত্র সরানোর প্রস্তাবেও আপত্তি রয়েছে অভিভাবকদের। তাঁদের দাবি, প্রায় দু'কিলোমিটার দূরে সন্তানদের পাঠানো সম্ভব নয়। বরং এই জায়গাতেই একটি পাকা স্কুল ভবন তৈরি করা হোক। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঝা জানিয়েছেন, পরিকাঠামোর সমস্যার কথা একাধিকবার শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের জেলা প্রশাসনের তরফেও জমি দিয়ে স্কুল ভবন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ei Muhurte