নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শরীরচর্চার জন্য প্রতিদিন দীর্ঘ সময় জিমে কাটানো কিংবা কঠিন ব্যায়াম করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটাই যথেষ্ট হতে পারে এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ঘণ্টায় ৩ থেকে সাড়ে ৪ মাইল গতিতে অতিরিক্ত মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটলে আয়ু প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
যাঁরা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রমে একদমই সক্রিয় নন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সামান্য বাড়তি হাঁটার সুফল আরও বেশি দেখা গেছে। মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রমের সময় ৫ মিনিট থেকে বাড়িয়ে ১০ মিনিট করলে, সব ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। শরীরের জন্য প্রতিটি নড়াচড়াই গুরুত্বপূর্ণ। একটু সক্রিয় হলেই শরীরে নানারকম শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহের ঝুঁকি কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর ফলে হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসে।
কম সক্রিয় ব্যক্তিদের জন্য এই সামান্য বাড়তি শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুফল আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বড় পরিবর্তন না এনে প্রতিদিনের জীবনে ছোট ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু করা উচিত। জীবনযাত্রায় এই পরিবর্তন আনতে শুরুতেই নিচের সহজ পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা। কাছাকাছি কোনও গন্তব্যে রিকশা বা গাড়ি না নিয়ে হেঁটে যাওয়া। প্রতিদিন রুটিন করে মাত্র পাঁচ মিনিট একটু জোরে বা দ্রুতগতিতে হাঁটা। পাশাপাশি, সক্রিয় থাকার পাশাপাশি শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকা বা বিশ্রাম নেওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

