নিজস্ব প্রতিনিধি: একটি ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে নাবালিকার দেহ। পাশের ঘরেই ঝুলছে পিসেমশাইয়ের দেহ। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে। জানা গিয়েছে, মৃত পিসেমশাইয়ের নাম সন্তু সর্দার (৫৪) এবং নাবালিকার নাম সুমনা সর্দার (১১)। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে। ঘটনাটি ঘটেছে, আজ, মঙ্গলবার (৪ অগস্ট) সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া কুঠিরপাড়া এলাকায়।
নাবালিকাকে খুন করে পিসেমশাই আত্মঘাতী হয়েছেন কিনা, এখন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত ব্যক্তি পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। গত মাসে বাড়ি ফিরেছেন। মেয়ের বিয়ের পর বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। তাঁর স্ত্রীও অনেকদিন আগে মারা গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একা থাকায় ওই নাবালিকাকে নিজের কাছে নিয়ে রেখেছিলেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সোমবারও সুমনা পিসেমশাইয়ের বাড়িতে ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে আচমকাই সন্তু সর্দারকে নিজের ঘরে ঝুলতে দেখতে পায় পাড়া প্রতিবেশীরা। সন্তুর দেহ যে ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে, তার পাশের ঘর তালাবন্ধ ছিল। এরপর ওই নাবালিকার খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু তাঁকে কোথাও খুঁজে না পাওয়া গেলে প্রতিবেশীরা পাশের ঘরের তালা ভাঙে। সেখানেই দেখতে পান, ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে ফুটফুটে সুমনার নিথর দেহ।
খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাদেরকে মৃত ঘোষণা করে। এরপর কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ এই মুহূর্তে তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাবেনা বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সাত সকালেই গ্রামের এমন দুটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ায় শোকের ছায়া এলাকায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, সম্ভবত ভাগ্নিকে খুন করে পিসেমশাই নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন। নাবালিকার গলায় দাগ পাওয়া গিয়েছে। তবে কি নাবালিকাকে গলা টিপে খুন করে সন্তু আত্মঘাতী হয়েছেন, সেটাই প্রশ্ন উঠেছে।

