নিজস্ব প্রতিনিধি: টলিউডে শুটিং সুরক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী ও কলাকুশলীরা। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে কর্মবিরতি। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই প্রতিবাদে একজোট হয়েছে গোটা টলিউড।
শুটিং ফ্লোরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে অভিনেতা, পরিচালক, টেকনিশিয়ান-সহ সমস্ত স্তরের কর্মীরা এদিন সরব হন। সকালে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে অংশ নেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি, আবির চ্যাটার্জি-সহ বহু অভিনেতা-পরিচালক।
এছাড়াও, প্রয়াত রাহুলের স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি এই আন্দোলনকে আরও আবেগঘন করে তোলে। শিল্পীদের একটাই দাবি, শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে। এই পরিস্থিতিতে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেই টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীরা কর্মবিরতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা এদিন থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে আপাতত টলিউডের সমস্ত কাজ থমকে গিয়েছে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার আবহ।
আরও পড়ুন: আইপিএলের আবহে ৩৫ লক্ষের ঘড়ি পরে স্পোর্টি লুকে ভাইরাল প্রীতি জিন্টা
এই প্রসঙ্গে অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তী বলেন, ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য সমান নিরাপত্তা থাকা দরকার। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী নয়, শুটিং ফ্লোরে কাজ করা প্রত্যেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল ও সায়ন্তনীর কথায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র। তাঁদের মতে, এতদিন ধরে যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ চলেছে, যা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এখন একটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলী তৈরি করে তা কঠোরভাবে পালন করানোর দাবিই সকলের। ফলে আপাতত থমকে গেছে টলিউডের কাজকর্ম। তবে শিল্পীদের আশা, এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

