নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: তারেক রহমানের জমানায় বাংলাদেশ জুড়ে চলছে ধর্ষণ মহামারি। মাদ্রাসা থেকে রাজপথ-নিরাপদ নয় কোনও কন্যা। সদ্য সমাপ্ত অগস্টেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৪ জন। আর মধ্যে ৩৬ জনই শিশু। ওই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ হওয়ার দিনেই সিরাজগঞ্জে চলন্ত ট্রেনের প্যান্ট্রি কারে এক মহিলা যাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে।
তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুইজন পুলিশের জওয়ান আর আর তৃতীয় অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয়। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যান্টিন বয়কে গ্রেফতার করা হলেও অধরা অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মী।
গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শান্তাহারের রেল পুলিশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা। অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, 'গত রবিবার রাতে রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য দিনাজপুরের পার্বতীপুর স্টেশনে নামার সিদ্ধান্ত নেন।ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ স্টেশন পার হওয়ার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তল্লাশির অছিলায় প্যান্ট্রি কারে নিয়ে যান। সেখানে ওই দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে প্রথমে ধর্ষণ করেন। এর পর প্যান্ট্রি কারের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিক ধর্ষণ করেন। এর পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। ৯৯৯-এর সদস্যরা ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করে পরবর্তী স্টপেজ শান্তাহার রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। ট্রেনটি শান্তাহার স্টেশনে পৌঁছানোর পরে শান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ কর্মীরা ট্রেনটিতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।'
শান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলালউদ্দিন জানিয়েছেন, নির্যাতিতা মহিলা যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রেনের প্যান্ট্রি কারের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্যাতিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।’

