নিজস্ব প্রতিনিধি: কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি নয়। সিবিআই-ইডি-আয়কর দফতরও নয়। বীরভূমের মহম্মদবাজারের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে টুলুর আত্মীয় মিনারের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি পেয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ২৮ কোটি টাকা ও প্রায় ১৫ কেজি সোনা (যার বাজারমূল্য ২১ কোটি টাকা)।
সঙ্গে টুলুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকার হদিশও পেয়েছে জেলা পুলিশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতোই দক্ষতার কাজ করেছে জেলা পুলিশ। টুলু মণ্ডলের মামলায় এমনটাই আজ, শুক্রবার বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতোই ভাল কাজ করতে পারে পুলিশ। সেটা দেখিয়ে দল। টুলুর ২১টি সম্পত্তির হদিস মিলেছে। সবটাই পুলিশ উদ্ধার করেছে। টুলু মণ্ডল গত ৪ তারিখের পর বিদেশে পালিয়েছে। টুলুর একাধিক অ্যাকাউন্ট সিজ করা হয়েছে। ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম উদ্ধার হয়েছে। ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ পাওয়া গিয়েছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার ছিল টুলুর। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি মিলিয়ে মোট ২৪২টি চারচাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’
আরও পডুন: 'শুধু আমি নই, আরও এক মন্ত্রী জইশের নিশানায়', দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, ‘মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। মূল মাথার খোঁজে যা যা করার করব। এত বড় দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না। এতদিন ধরে এত বড় দুর্নীতি, সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা একদিনের ঘটনা নয়। আমার রাজ্যে কী ঘটছে, তার জন্য আমি দায়ী নয়, এটা হতে পারে না। কিন্তু তারপর কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেটাই আসল। এত সম্পত্তি তো একদিনে হয় না। এতদিন ধরে কী করছিল আগের সরকার? উপরতলা থেকে নির্দেশ না গেলে, এটা হয় না। বেচারি পুলিশ, জেলাশাসককে দোষ দিয়ে কী লাভ আছে। তবে যারা যুক্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’

