নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় উপচে পড়া ভিড়। মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার জন্য বাস ট্রেনের পাশাপাশি মেট্রোর উপরেও ভরসা করেন শহর ও শহরতলির অসংখ্য মানুষ। তবে এবারের পুজোয় কলকাতা মেট্রোর যাত্রী সংখ্যার পরিসংখ্যানে দেখা গেল অন্য ছবি। পুজোর শুরুতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও সপ্তমী থেকেই ক্রমশ কমতে শুরু করে সংখ্যা।
ষষ্ঠীতে যেখানে মেট্রোয় চড়েছিলেন ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ, সেখানে বিজয়া দশমীতে সেই সংখ্যা নেমে এল সাড়ে তিন লক্ষেরও নীচে। পুজোর দিনগুলিতে কোন দিন কত যাত্রী মেট্রোয় সফর করলেন?
কলকাতা মেট্রোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চতুর্থী থেকেই যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৪ অক্টোবর, চতুর্থীতে মেট্রোয় যাতায়াত করেন ১১ লক্ষ ৬৩ হাজার যাত্রী। পরের দিন অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর পঞ্চমীতে সংখ্যাটা আরও বেড়ে হয় ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার। ষষ্ঠীতে ভিড় পৌঁছে যায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ১৬ অক্টোবর, মহাষষ্ঠীতে কলকাতা মেট্রোয় ভিড় ছিল মোট ১২ লক্ষ ১ হাজার। কিন্তু সপ্তমী থেকেই ছবিটা বদলাতে থাকে। ১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীতে যাত্রী সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯ লক্ষ ৭৮ হাজারে। ওই দিনই চোরবাগানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় সপ্তমীতে আরও কমে যায় যাত্রীর সংখ্যা। ওই দিন মেট্রোয় সফর করেন ৮ লক্ষ ১৩ হাজার মানুষ।
অষ্টমীতে যাত্রী সংখ্যা আর বিশেষ বাড়েনি। ১৯ অক্টোবর অষ্টমীতে কলকাতা মেট্রোয় যাতায়াত করেন ৮ লক্ষ ৪২ হাজার যাত্রী। নবমীতে সেই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় ৮ লক্ষে। আর দশমীর পরিসংখ্যান ছিল আরও অনেকটাই কম। ২১ অক্টোবর, বিজয়া দশমীতে মেট্রোয় যাত্রী সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩ লক্ষ ৪১ হাজারে। পুজোর দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত স্টেশন ও মেট্রোর ভিতরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আরপিএফ কর্মী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে ছিলেন মেট্রোর অন্যান্য কর্মীরাও। পুজোর দিনগুলিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তবে পরিসংখ্যান বলছে, চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত ভিড় থাকলেও সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত ক্রমশ কমেছে মেট্রোর যাত্রী সংখ্যা। ফলে এবারের পুজোয় কলকাতা মেট্রোর যাত্রী সংখ্যার গ্রাফে প্রথম দিকের ব্যস্ততার পর শেষের দিনগুলিতে স্পষ্ট পতন দেখা গিয়েছে।

