নিজস্ব প্রতিনিধি: চলতি মাসের ৫ তারিখে যশোর রোডে শিরিষ গাছের শুকনো ডাল ভেঙে মৃত্যু হয় এক যুবকের। নাম বাপন বিশ্বাস, বয়স ২৫ বছর। বাড়ি বনগাঁর সিকদারপল্লিতে। এবার সেই যুবকের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। গত ৫ জুলাই যশোর রোডে শিরিষ গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
তাঁর অকালমৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা পরিবারে। এবার এই কঠিন সময়ে নিহত যুবকের পরিবারের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) খাদ্যমন্ত্রী ও বনগাঁ মহকুমা শাসক অশোক কীর্তনীয়া বাপনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। এবং মৃতের পরিবারের হাতে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, যশোর রোডে প্রায় ৪ হাজার গাছ রয়েছে। বনদফতর এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-এর যৌথ সমীক্ষায় বেশ কিছু মৃত ও বিপজ্জনক গাছ চিহ্নিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১১টি গাছ কাটার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেগুলি কেটে ফেলা হবে।
এই বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘যশোর রোডে গাছের ডাল ভেঙে যুবকের মৃত্যু পরিবারের জন্যে অত্যন্ত দুঃখের। এরপরেই ব্যক্তিগতভাবে আমি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। উনি পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেইমতো আজ তাঁর পরিবারের হাতে ৪ লক্ষ টাকার একটি চেক তুলে দিয়েছি। সঙ্গে আরও একটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলাম যে, মৃত যুবকের একটি ভাই রয়েছে। সে এখনও ১৮ বছর পূর্ণ করেনি। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে তাঁর জন্যে সরকারের থেকে কিছু ভাবা হবে।’
এরপর দীর্ঘদিন ধরে যশোর রোডে গাছের ডাল ভেঙে বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে অশোক কীর্তনীয়া জানিয়েছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল জমানায় এই বিষয়টি কেউ খেয়াল করেনি। তৎকালীন সরকার গাছ কাটা নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। আমাদের সরকার তো মাত্র ৩ মাসের। একটু অপেক্ষা করুন। আমরা টেন্ডার পাশ করে ফেলেছি। গাছ কাটায় হাত দিলে, দেখবেন মুহূর্তেই সব সাফ হয়ে যাচ্ছে। আগের সরকার যদি এই বিষয়টি দেখত, তাহলে আজ এমন তরতাজা প্রাণ যেত না। গঙ্গার দিক থেকেই গাছপালা কাটা শুরু হবে। সঙ্গে ইছামতী নদী সংস্কারও করা হবে। তার জন্যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু একটু ধৈর্য রাখুন। শীঘ্রই এই বিষয়ে বড় ঘোষণা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন টেন্ডারে কাজ হবে। পুরোনো কোনও টেন্ডারে কাজ হবে না। এটুকুই বলতে পারি।’

