নিজস্ব প্রতিনিধি: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দিয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়েছে ভারতীয় বাজারেও। বুধবার দেশের শেয়ারবাজার, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, বুলিয়ন বাজার এবং জ্বালানি বাজার সব ক্ষেত্রেই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এক নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, বিশেষত আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। বিশ্বে ইতিবাচক সংকেত এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ভর করে সেনসেক্স প্রায় ৩ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত লাফ দেয় এবং নিফটি ৯০০ পয়েন্টের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,০০০-এর গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করে। ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল খাতের শেয়ারে ব্যাপক কেনাবেচা লক্ষ্য করা যায়। বাজারের এই জোরালো উত্থানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সংযোজন হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিগ্রি ছাড়াই ১৯ বছরের তরুণীকে মোটা টাকার মাইনে দিয়ে চাকরি দিল BMW
শুধু শেয়ারবাজার নয়, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা শক্তিশালী হয়ে প্রায় ৫০ পয়সা বেড়ে ৯২.৫৬ স্তরে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দরপতন এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি কমার কারণে মুদ্রার এই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
বুলিয়ন বাজারেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। এমসিএক্সে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৭০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১৩ হাজার টাকার বেশি বেড়ে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের বাজারে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে এসেছে, যা ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য স্বস্তিদায়ক। এতে আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভারতীয় বাজার আগামী দিনগুলোতে আরও নতুন উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে। বুধবারের এই উত্থান খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছে।

