এই সময়, বর্ধমান ও দুর্গাপুর: পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পঞ্চায়েত অফিসে ক্যাম্প করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলির কাজ শুরু হলো শুক্রবার থেকে। মেমারি, জামালপুর, রায়না ছাড়াও গলসি ও ভাতার এলাকাতেও হয়েছে ফর্ম বিলির কাজ। মেমারির বিধায়ক মানব গুহ নিজে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে ঘুরে ফর্ম নিতে আসা মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
একই ছবি দেখা গিয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরেও। এ দিন সকালে সিটি সেন্টার অঞ্চলে এডিডিএ ভবনের সামনে বসে বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এবং দলের অন্য নেতারা মিলে ফর্ম বিলি ও তা পূরণ করে দেওয়ার কাজ করেন। অনেক মহিলা এসেছিলেন এই ফর্ম নিতে।
বর্ধমানে ফর্ম দেওয়ার সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক মানব। তিনি ক্যাম্পে আসা মহিলাদের বুঝিয়ে দেন, কী ভাবে তা পূরণ করতে হবে। কোথাও সমস্যা হলে সরাসরি পঞ্চায়েতে এসে সমস্যা মেটানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। মেমারি বিধানসভার গোপ গন্তার, আমাদপুর, নিমো-১, নিমো-২, বাগিলা, দেবীপুর, দলুইবাজার-১, দলুইবাজার-২ অঞ্চলে ফর্ম বিলি হয়। মানব বলেন, 'সবাইকে বলেছি, অহেতুক ব্যস্ত হবেন না। আপনার বুথে আপনার জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ করে দেবেন সরকারি আধিকারিক ও এলাকার শিক্ষিত মানুষরা। একটি পরিবারের কাজ একটি ফর্মেই হবে। মেমারি বিধানসভায় আজ ১০টি বুথে ফর্ম বিলি হচ্ছে। শুধুমাত্র সেই বুথের মহিলারা গিয়ে ফর্ম নেবেন। অন্য কোথাও যাওয়ার প্রযোজন নেই।' দুর্গাপুরেও এডিডিএ ভবনে ছিল ভিড়।
অনেকে যেমন ফর্ম নিতে আসেন, কেউ আবার এসেছিলেন কী নথি লাগবে, তা জানতে। পলাশডিহা গ্রামের বাসিন্দা অপর্ণা সিংহ এ দিন প্রথম ফর্ম ফিল আপ করেন। তাঁর ফর্ম পূরণ করে দেন বিধায়ক লক্ষ্মণ। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করা হবে। আজ থেকে ফর্ম বিলি ও তা পূরণ করার কাজ শুরু হয়েছে। এর পরে প্রতিটি বরো থেকে ফর্ম বিলি হবে। আগামী দিনে আয়ুষ্মান প্রকল্প শুরু হয়ে যাবে।' বর্ধমানে আবার আলোচনা শুরু হয় ১২ পাতার অন্নপূর্ণ যোজনা ফর্ম নিয়ে। তা নিয়ে মানব বলেন, 'যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের বলি এখনও পর্যন্ত ৩০ লক্ষ ভুয়ো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলছে। সমালোচনার আগে সেই ডাকাতির পরিমাণটাও ভাবুন।' জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদারও এ দিন বিভিন্ন ক্যাম্পে ফর্ম বিলি করেন। সঙ্গে ছিলেন জামালপুরের বিডিও পার্থসারথি দে। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিধায়ক অনেকের বাড়িতে যান।
জামালপুরে-২ পঞ্চায়েতের বকুলতলায় ১৫৫ ও ১৫৬ নম্বর এবং জোতশ্রীরাম পঞ্চায়েতের শ্রীকৃষ্ণপুর এলাকায় শুরু হয় ফর্ম দেওয়ার কাজ। স্বপ্না সাহা নামে এক মহিলার বাড়িতেই বৃষ্টিতে ভিজে ফর্ম দিতে যান বিধায়ক। তিনি বলেন, 'আমাদের সরকার কথা দিয়েছিল। আমরা ওঁর বাড়িতে এসেছি বিডিওকে সঙ্গে নিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে। কোনও সমস্যা হলে বিডিও সহযোগিতা করবেন। ওঁর অফিস বা পঞ্চায়েতে গেলেও হবে।' বিধায়কদের ভূমিকায় খুশি অনেকেই। তবে অনেকে আবার ফর্মের শর্ত নিয়েও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

