এই সময়, বেলুড়: গঙ্গায় স্নান করতে নেমে ডুব দিয়ে তলিয়ে গেলেন এক মহিলা। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বেলুড়ের বিকে পাল জগন্নাথ ঘাটে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ওই জায়গাতেই এক যুবক স্নান করতে নেমে গঙ্গার বানের জলে তলিয়ে যাচ্ছিলেন।
সেই সময় অন্য এক যুবক নিজের জীবন তুচ্ছ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে উদ্ধার করেছিলেন সেই ডুবন্ত যুবককে। সেই ঘটনার রেষ কাটার আগেই বৃহস্পতিবার ইদের সকালে ফের এক মহিলার জলে ডোবার ঘটনায় হইচই পড়ে যায় এলাকায়। বার বার এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনেরও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এক মধ্য বয়স্কা ঘাটে চপ্পল খুলে রেখে গঙ্গায় স্নান করতে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মহিলা কোনও দিকে না তাকিয়ে সিঁড়ি দিয়ে সোজা জলে নামতে থাকেন। তা দেখে ঘাটে থাকা মানুষজন তাঁকে সতর্ক করেন। তিনি তাতে কর্ণপাত না করেই জলে নামতে থাকেন। তখন গঙ্গায় জোয়ারের যথেষ্ট টান ছিল। ঘাটেও জল ছিল টইটম্বুর। এর পরে ওই মহিলা ডুব দেওয়ার পরে আর না ওঠায়, সবাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। ঘাটের আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বেলুড় থানার আইসি। খবর যায় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপে। তাঁরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও, সন্ধে পর্যন্ত তলিয়ে যাওয়া মহিলার খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ মহিলার নাম, পরিচয় কিছুই জানা যায়নি। বেলুড় থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে একই ঘাটে অন্তত চার থেকে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটল। তাতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে স্কুল পড়ুয়া যেমন আছে, তেমনই বয়স্করাও রয়েছেন। কেউ স্নান করতে গিয়ে বা কেউ কাপড় কাচতে গিয়ে আচমকা ধেয়ে আসা তীব্র বান বা জোয়ারের ধাক্কায় তলিয়ে গিয়েছেন। একের পর এক দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বিকে পাল জগন্নাথ ঘাটকে 'ডেখ জোন' বা 'মারণ ঘাট' বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। বালির সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিং কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন, গঙ্গায় ডুবে যাওয়া ঠেকাতে ঘাটে ঘাটে 'হুইসল ম্যান' নিয়োগ করা হবে। প্রতি ঘাটে স্নানে বা অন্য কাজে নদীতে নামা মানুষদের বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করার কাজ করবেন তাঁরা। বান আসার সময়ে হুইসল বাজিয়ে জলে থাকা মানুষদের সতর্ক করা হবে এবং প্রয়োজনে বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থাও থাকবে। উদ্ধার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুরসভা থেকে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন বিধায়ক।

