এই সময়, হাওড়া: শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল আকাশের মুখ ভার। দুপুরে আচমকা ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। ভরদুপুরে নেমে আসে নিকশ কালো অন্ধকার। তারপরই শুরু হয় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের দাপটে বহু জায়গায় গাছের ডালপালা ভেঙে যায়। কোথাও আবার গাছ উপড়ে অবরুদ্ধ হয়ে যায় রাস্তা।
তার জেরে হাওড়া-হুগলি শহরতলি এবং গ্রামীণ এলাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই। যদিও একটানা গরমের পরে এ দিনের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
দুপুর আড়াইটা নাগাদ হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে দমকা হাওয়া। যাঁরা বিভিন্ন কাজে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, তাঁরা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আশপাশের বিভিন্ন দোকান, গ্যারাজ ও ছাউনির নীচে আশ্রয় নেন। ঝড়ের তীব্রতায় ডুমুরজলা রিং রোড, ঘোষপাড়া, তারাপদ বোস লেন, চ্যাটার্জি পাড়া, বিচালি ঘাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ফোরশোর রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয় ডুমুরজলা ও মধ্য হাওড়ার বেশ কিছু এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় হাওড়া পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। এই দপ্তরের সুপারভাইজ়ার ভোলা নস্কর জানান, ঝড়ের জেরে বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে রাস্তা আটকে গিয়েছিল। দ্রুত গাছের গুড়ি কেটে রাস্তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ এতটাই ছিল যে, একাধিক জায়গায় ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে যায়। হাওড়ার পুলিশ কমিশনারের বাংলোর সামনে একটি ল্যাম্পপোস্ট হেলে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায়। পুলিশ দ্রুত সেটি সরিয়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বঙ্কিম ব্রিজের উপরেও একটি লাইট পোস্ট ভেঙে পড়ে। তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। পরে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একটানা বৃষ্টির জেরে উত্তর ও দক্ষিণ হাওড়ার একাধিক জায়গায় জল জমে যায়। তার ফলে যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। তবে বৃষ্টি থামার পরে ধীরে ধীরে বেশিরভাগ জায়গা থেকেই জল নামতে শুরু করে। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও শহরের নিচু এলাকাগুলিতে রাত পর্যন্ত জল জমে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সৌমেন দাস বলেন, 'দুপুরে এমন ঝড় হবে বুঝতেই পারিনি। অফিস থেকে বেরিয়ে দেখি চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। তবে বৃষ্টিটা হওয়ায় গরম থেকে অনেকটা স্বস্তি মিলেছে।' ফোরশোর রোডের বাসিন্দা অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, 'গাছ পড়ে কিছু সময়ের জন্য রাস্তা বন্ধ ছিল। কিন্তু পুরসভার কর্মীরা দ্রুত এসে রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।'
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে জুটমিল কলোনিতে প্রবল ঝড়ে একটি অশ্বত্থ গাছ উপড়ে পড়ে। তাতে কেউ হতাহত না হলেও ১১ হাজার ভোল্টের তারের মধ্যে ঝুলতে থাকে গাছটি। পাশে থাকা একটি কোয়ার্টারের পাঁচিল ভেঙে যায়। যদিও মন্দিরের কিছু হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মগরা থানার পুলিশ।

