সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলেই হবে উন্নতি। সেই বার্তাতেই পুরুলিয়া জেলা জুড়ে পদ্মের সমাহার। নয়টি বিধানসভাতেই বিজেপির জয়জয়কার।
ঝালদাও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই নতুন সরকারের কাছে ফের পুরোনো দাবি তুলে স্বপ্নপূরণের আশায় রয়েছেন ঝালদার মানুষ। ১৩৮ বছরের প্রাচীন এই শহর।
পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জল না পাওয়া, বাসস্ট্যান্ডের বেহাল দশার সঙ্কট তো রয়েইছে, তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে তৈরি এই শহরের উপর দিয়ে গিয়েছে পুরুলিয়া-রাঁচি রাজ্য সড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যে এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা সংকীর্ণ। নিত্যদিন যানজটে নাকাল স্কুল পড়ুয়া থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগী। বাস স্ট্যান্ডের সমস্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। ঝালদাবাসীর দাবি, এই যানজট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় একটি বাইপাস। তার সঙ্গে তৈরি হোক উন্নত পরিকাঠামো সম্পন্ন একটি নতুন বাস স্ট্যান্ডের।
শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিমল দাস, মণীন্দ্র কর্মকার জানাচ্ছেন, যাতায়াতের পথ সংকীর্ণ হওয়ায় যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এর থেকে শহরের লোককে বাঁচাতে দরকার একটি বাইপাসের। পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা অরূপ গোস্বামী বলছিলেন, 'পুরুলিয়া থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে রাঁচি। চিকিৎসা-সহ ব্যাবসা সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন বহু মানুষকে সেখানে যেতে হয়। ঝালদার যানজট আমাদের কাছে বিভীষিকা। একটা বাইপাস হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।'
জয়পুর এলাকার বাসিন্দা দিলীপ মাহাতো আবার বলছেন, 'ঝালদা পুরসভার কাছে রাস্তার উপরে দাঁড়ায় বাস। এটিই আমাদের বাস স্ট্যান্ড। না-আছে প্রতীক্ষালয়, না-আছে শৌচাগার। তার উপরে রাস্তার উপরে বাস দাঁড়ায় বলে যানজট আরও দীর্ঘ হয়। তাই একটা বাইপাসের সঙ্গে বাস স্ট্যান্ডও দরকার।'
ঝালদার প্রবীণ বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এখন যে রাজ্য সড়ক ঝালদার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, একটা সময়ে সেটাই ছিল বাইপাস। এখন এই রাস্তা ঝালদার প্রধান সড়ক হয়েছে। সেই রাস্তাতেই তৈরি হয়েছে দোকান-বাজার। নতুন একটা বাইপাস হলে ঝালদা শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। বাঘমুন্ডির বিজেপি বিধায়ক রহিদাস মাহাতো বলছেন, 'প্রশাসনিক বৈঠকে ইতিমধ্যে ওই এলাকায় বাইপাস তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ঝালদা এলাকার জলকষ্ট ও বাস স্ট্যান্ডের সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। যত শিগগির সম্ভব, সমস্যার সমাধান হবে।'
সেই আশ্বাসেই নতুন করে শুরু হয়েছে ঝালদাবাসীর প্রতীক্ষার পালা।

