নবদ্বীপের একটি ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। শুক্রবার রাতে ওই ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করে পুলিশ। সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে।
রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় বা তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
গত শনিবার, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মৃদুলা দত্তের বাড়ি থেকে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি থেকে। একই ভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়ি এবং গুদাম থেকেও উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী। আর এ বার ত্রাণের জিনিস উদ্ধার হয়েছে নবদ্বীপে একটি ক্লাবঘর থেকে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, নবদ্বীপ বড়াল ঘাট স্পোর্টিং ক্লাব থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি। ওই ক্লাবের পাশেই প্রাক্তন বিধায়ক এবং নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়ি।
স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিমানকৃষ্ণের বাড়ির পাশের এই ক্লাব ঘরে ত্রাণ সামগ্রী মজুতের খবর পেয়ে তাঁরা পুলিশকে জানান। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। সূত্রের খবর, ক্লাবের প্রায় দশটি ঘরে ওই সব ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অর্থে বরাদ্দ হওয়া ত্রাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাখা ছিল। পুরসভার চেয়ারম্যানের নির্দেশই এই কাজ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
শনিবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে যায় পুলিশ। তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কেন এবং কার নির্দেশে ওই ক্লাবে এত ত্রাণ সামগ্রী রাখা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
বিমানকৃষ্ণকে লক্ষ্য করে জুতো এবং জলের বোতল ছোড়া হয় বলে সূত্রের খবর। নিয়ে আসার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে 'চোর চোর' স্লোগানও দেওয়া হয়।
তবে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি নবদ্বীপের তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। যদিও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন বিমানকৃষ্ণ সাহা।

