এই সময়, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় 'হোল্ডিং সেন্টার' দেখার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
জেলা গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের খবর, বর্ধমান জেলা থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মানুষ, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে থাকছিলেন, তাঁরা নিজেরাই ফিরে গিয়েছেন বনগঁা সীমান্ত এলাকায়।
সেই সংখ্যা ১৪৫। এখনও কাঞ্চননগর, রথতলা, নীলপুর, লাকুর্ডি এলাকায় বেশ কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে অবৈধ ভাবে আধার কার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড-সহ ভোটার কার্ড তৈরি করেছিলেন। িবধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ার সময়ে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সদ্য শেষ হওয়া 'সার' (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু তথ্য ধরে বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে এসে বসবাস করছেন, এমন লোকের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। হোল্ডিং সেন্টার তৈরির পরে তাঁদের সেখানে রাখা হবে। বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এই মুহূর্তে ১৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, এদের মধ্যে সাত জন মহিলা। আদালতে এঁদের বিচারও চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভ্ন্দুে অধিকারীর ঘোষণার পরে এর পর থেকে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে ধরা হলে তাঁকে আর আদালতে না-তুলে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বর্ধমানের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুর্ডি জলকল এলাকার রানিপুকুরের সামনে এমনই এক পরিবারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে থাকলেও তাদের কাছে কোনও ধরণের বৈধ কাগজ নেই। অথচ এই পরিবারের সদস্যরা এই দেশের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এবং রেশন কার্ড তৈরি করে নিয়েছেন। এমনকী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও তুলেছেন। উমা মণ্ডল নামে স্থানীয় এক মহিলা বলেন, 'শোভা হীরা, তাঁর মেয়ে বুলু হীরা ও ছেলে সমু হীরাকে নিয়ে এখানে বাস করছেন। ওঁদের আদি বাড়ি বাংলাদেশের দড়িউমাজুড়ি পূর্বপাড়া, চিতলমারি বাগেরহাট এলাকায়। শোভার স্বামী ভাগ্যধর হীরা সেখানেই থাকেন বড় মেয়েকে নিয়ে। এলাকায় এত দিন তৃণমূলের লোকজন ছিল বলে পুলিশ সব জেনেও চুপ করে ছিল। এখনও ওঁদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।'

