টানা ১০ বছর এক সংস্থায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পর হঠাৎই একদিন ছাঁটাইয়ের কোপে পড়েন এক টেক-কর্মী। তিন-তিনবার প্রমোশন পাওয়ার পরও আচমকা চাকরি হারিয়ে মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল তাঁকে। এরপর টানা পাঁচ মাস শত শত জায়গায় দরখাস্ত আর একের পর এক ব্যর্থ ইন্টারভিউ- পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে নিজের ওপর থেকেও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি।
কিন্তু হাল না ছেড়ে পথ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবক। সাধারণ উপায়ে প্রস্তুতির বদলে তিনি সাহায্য নেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর। আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর জীবন।
যেভাবে AI-কে কাজে লাগালেন তিনি:
ইন্টারভিউ ক্র্যাক করতে মূলত ৩টি অভিনব কৌশল ব্যবহার করেছিলেন তিনি:
- জব ডেসক্রিপশন বিশ্লেষণ: কোম্পানির 'Job Description' এআই-কে দিয়ে বিশ্লেষণ করিয়ে বুঝে নিতেন কোন দক্ষতার (skill) ওপর তারা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।
- ইন্টারভিউয়ারদের প্রোফাইল স্টাডি: যারা ইন্টারভিউ নেবেন, তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও লিঙ্কডইন তথ্য এআই-এ ইনপুট দিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন ও ইন্টারভিউয়ের ধরন সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করতেন।
- STAR পদ্ধতিতে উত্তর তৈরি: আগে ইন্টারভিউয়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে ফেলার অভ্যাস ছিল তাঁর। এআই-এর সহায়তায় STAR (Situation, Task, Action, Result) পদ্ধতি মেনে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও কার্যকর উত্তর প্রস্তুত করতে শুরু করেন।
বাজিমাত ও কোটির প্যাকেজ
প্রযুক্তির এই সঠিক ব্যবহারে হাতেনাতে ফল মেলে। একটি আন্তর্জাতিক প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থা তাঁকে বার্ষিক ১,৫৫,০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১.৩ থেকে ১.৫ কোটি টাকা)-র লোভনীয় অফার দেয়। এর সাথে রয়েছে ১৫% বার্ষিক বোনাস এবং হাইব্রিড কাজের চমৎকার সুযোগ।
রেডিটে নিজের এই লড়াইয়ের গল্প শেয়ার করে তিনি লিখেছেন- কঠিন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে, এটি তারই প্রমাণ।

