বিধানসভা ভোটের আগে সিপিআইএম (CPIM) ছেড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। দলবদল নিয়ে সেই সময়েও যথেষ্ট শোরগোল হয়েছিল। তবে নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। সম্প্রতি বাম-ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবীর সঙ্গে আদালতের ভেতর প্রতীক উরের একটি ছবি ভাইরাল হতেই আবারও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
অবশেষে এই জল্পনা ও বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রতীক উর নিজেই। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গিয়ে তিনি জানান, "সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বামপন্থী হতে পারেন, তবে সেই সময় আদালতের ঘরে তিনি আমার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট আইনজীবী সূর্যনীলও তো একই ঘরে ছিলেন! কই, তাঁর সঙ্গে আমার ছবি তো ভাইরাল হলো না? আদালতের ভেতরে আমরা সবাই আইনজীবী হিসেবে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। এটা নিয়ে কেউ রাজনীতি বা বিতর্ক তৈরি করলে আমার কিছু বলার নেই।"
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে আইন পাস করার পর ২০১৭ সালে বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রতীক উর। কিন্তু তৎকালীন সময়ে বামপন্থী রাজনীতিতে পূর্ণ সময়ের কর্মী হওয়ায় তিনি আইন প্র্যাকটিস শুরু করতে পারেননি। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।
রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন-এমন খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতীক উর। তিনি স্পষ্ট জানান, "ভোটের পর থেকেই হাইকোর্টে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছি, আর রাজনীতিও সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছি। তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা ও দেখা হয়-যা খুবই স্বাভাবিক।"
সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "বিজেপি যেভাবে দেশে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সরকার চালাচ্ছে, তাতে শুধু রাজপথের আন্দোলনে হবে না, আইনি লড়াইও ততটাই জরুরি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আজ আমি আদালতের ময়দানে লড়াই করছি।"

