ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে জোট বদলের জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে দিল্লিতে তাঁর অবস্থান এবং বিজেপি শীর্ষনেতাদের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের খবর সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ গঙ্গোয়ারের ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত ‘অপারেশন লোটাস’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতীয় রাজনীতিতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, দিল্লিতে হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর সাংসদ স্ত্রী কল্পনা সোরেন বিজেপি-র শীর্ষনেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই জল্পনার মধ্যেই রাজ্যপালের দিল্লিযাত্রা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদিকে, হেমন্তের এই নীরবতা এবং দিল্লিতে অবস্থানকালে রাঁচীতে কংগ্রেস বিধায়কদের গোষ্ঠী-বৈঠকও রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে।
খনি দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতারির পর জেল থেকে বেরিয়ে নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন হেমন্ত। ৮১ আসনবিশিষ্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় সরকার গড়ার জাদুসংখ্যা ৪১। গত নির্বাচনে হেমন্তের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জিতেছিল ৩৪টি আসনে। জোটসঙ্গী কংগ্রেস জেতে ১৬টি আসন। আরজেডি এবং বামেরা মিলে জয়ী হয় ৬টি আসনে। বিরোধী জোটের সমর্থন নিয়ে হেমন্ত সরকার গড়েন। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র হাতে রয়েছে ২১টি আসন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেমন্ত কংগ্রেসের জোট ছেড়ে বেরিয়ে এলেও বিজেপি-র সমর্থন নিয়ে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন। জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে কংগ্রেসের ভূমিকা। দলের ১৬ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জন হেমন্তের দলের এক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে খবর। দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়িয়ে আরও ৩ জন বিধায়ক যদি এই আটজনের সঙ্গে যোগ দেন, তবে ১১ জন বিধায়ক মিলে ভিন্ন জোটে শামিল হতে পারেন।
বিজেপি সূত্রে খবর, গত তিন সপ্তাহ ধরেই হেমন্তের ‘মনবদল’ এবং ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতার ওলটপালটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিহার নির্বাচনের সময় থেকেই এই ‘সলতে পাকানো’ শুরু হয়েছিল, যখন হেমন্তের দলের এক শীর্ষনেতার সঙ্গে সর্বভারতীয় বিজেপি-র এক নেতা বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, হেমন্ত তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করার শর্ত দিয়েছেন। তবে বিজেপি এই শর্ত মানবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যদি শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের ক্ষমতায় জোটবদল হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ আক্ষরিক অর্থেই বিজেপি-শাসিত রাজ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত দ্বীপের মতো হয়ে উঠবে। কারণ, ওড়িশা, বিহার এবং অসমের পর ঝাড়খণ্ডও চলে যাবে পদ্মশিবিরের দখলে।

