কলকাতা: রাজ্যে জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) প্রদান ও তার বৈধতা নিয়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ি চরম আকার ধারণ করেছে। আগের সরকারের আমলে ইস্যু করা কাস্ট সার্টিফিকেটগুলির সত্যতা যাচাইয়ে নবান্নের নির্দেশে ব্যাপক তদন্ত ও ঝাড়াই-বাছাই অভিযান শুরু করেছে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর।
প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য:
- মোট যাচাই: গত ১৫ বছরে দেওয়া মোট ১,২২,১১৭টি শংসাপত্র পুনর্যাচাই করা হয়েছে।
- বৈধ শংসাপত্র: যাচাইকৃত সার্টিফিকেটের মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮%) বৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে।
- বাতিল শংসাপত্র: জালিয়াতি ধরা পড়ায় ইতিমধ্যেই ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।
- এর মধ্যে রয়েছে ৮৩টি SC, ৪১টি ST এবং ১১টি OBC শংসাপত্র।
- সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায়। এর মধ্যে ২৯টি শংসাপত্রকে সরাসরি 'অবৈধ' বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নজরদারিতে 'দুয়ারে সরকার' শিবির: অভিযোগ, আগের আমলে 'দুয়ারে সরকার' শিবিরের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বড়সড় দুর্নীতির ছাপ রয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, সেই সময়ে ইস্যু করা সন্দেহজনক নথিগুলোকেই এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: তদন্তের তালিকায় থাকা ৪৫,৩৬৭টি সন্দেহজনক শংসাপত্রধারীদের খুব শীঘ্রই শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। শুনানিতে সঠিক নথিপত্র ও প্রমাণ পেশ করতে না পারলে সেই সমস্ত শংসাপত্রও আইনত বাতিল করে দেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে এই প্রশাসনিক তৎপরতায় বর্তমানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

