Dailyhunt
কফ সিরাপ কি সত্যিই ক্ষতিকর? আপনার শিশুকে কখন দেবেন আর কখন নয়, জানুন জরুরি তথ্য

কফ সিরাপ কি সত্যিই ক্ষতিকর? আপনার শিশুকে কখন দেবেন আর কখন নয়, জানুন জরুরি তথ্য

এক ঝলক 6 months ago

শিশুদের সামান্য কাশি হলেই বহু বাবা-মা তড়িঘড়ি কফ সিরাপ (Cough Syrup) দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস সবসময় সঠিক নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তা শিশুর উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কফ সিরাপ আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

চাইল্ড রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, কাশির মূল কারণ না বুঝে শুধু সিরাপ দিলে তা আসল সমস্যাকে আড়াল করে দেয়। এর ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে এর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব দেখা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কাশির সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে তার কারণ জানা জরুরি। অনেক সময় সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতিতেই কাশি কমে যায় এবং শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

সব কাশিতে কেন ওষুধের প্রয়োজন নেই?

শিশুদের বেশিরভাগ কাশিই সাধারণত সর্দি বা ফ্লু-এর মতো ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয়, যা কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। কফ সিরাপ শুধু সাময়িকভাবে উপসর্গ কমায়, কিন্তু রোগের কারণ দূর করে না। এর ফলে যদি কাশি অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো গুরুতর সংক্রমণের কারণে হয়, তবে তা সহজে ধরা পড়ে না।

বেশি কফ সিরাপ ডেকে আনতে পারে বিষক্রিয়া

শিশুদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ কফ সিরাপে ডিকনজেস্ট্যান্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন বা কখনো কখনো কোডিনের মতো উপাদান থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব উপাদান গ্রহণে শিশুর ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, বমি বমি ভাব বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। শিশুদের শরীর ওষুধের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য ওভারডোজও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুরা কেন ওষুধের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সংবেদনশীল?

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের লিভার এবং কিডনি সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয় না। এর ফলে ওষুধ তাদের শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে এবং তার প্রভাব বেশি হয়। যে ডোজ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক, তা শিশুদের জন্য অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই চিকিৎসকরা আন্দাজে নয়, বরং শিশুর ওজনের ভিত্তিতে ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করেন।

নিরাপদ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়

চিকিৎসকরা হালকা কাশির জন্য ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোকেই বেশি কার্যকর বলে মনে করেন। এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের মধু (Honey) দিলে তা গলাকে আরাম দেয় এবং রাতের কাশি কমাতে সাহায্য করে। গরম স্যুপ, হারবাল চা বা সাধারণ গরম জল পান করলে গলার অস্বস্তি কমে। গরম জলের ভাপ নিলে বা স্যালাইন জলের ফোঁটা নাকে দিলে সর্দি ও কফ জমে থাকা কমতে পারে। পাশাপাশি প্রচুর জল পান করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে শরীর নিজে থেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতিগুলো সস্তা, নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত।

কখন কফ সিরাপ দেওয়া জরুরি?

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ডাক্তাররা কফ সিরাপ দিতে পারেন, যেমন-অ্যালার্জির কারণে কাশি, হুপিং কাশি বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। তবে সেক্ষেত্রেও ওষুধের পরিমাণ, সময়কাল এবং ধরন একজন ডাক্তারই ঠিক করে দেবেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে শিশুদের ওষুধ দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

এই বিষয়ে কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডক্টর জয়কিষণ ত্রিপাঠি জানান, "কাশি হল শরীরের একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ফুসফুস থেকে কফ ও ময়লা বেরিয়ে যায়। এটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দমন করার চেষ্টা করা ক্ষতিকারক হতে পারে।"

আপনার সন্তানের কাশির সমস্যা হলে অবশ্যই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ek Jhalak