Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
নারীর অধিকার রক্ষায় চাই ইউসিসি, মাদ্রাসা বন্ধের পক্ষে সওয়াল করে কলকাতায় সরব নির্বাসিত তসলিমা

নারীর অধিকার রক্ষায় চাই ইউসিসি, মাদ্রাসা বন্ধের পক্ষে সওয়াল করে কলকাতায় সরব নির্বাসিত তসলিমা

এক ঝলক 2 weeks ago

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে ১৯৯৪ সালের আগস্টে দেশ ছাড়তে হয়েছিল নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মাতৃভূমিতে আর ফেরা না হলেও, ২০০৭ সালে কলকাতা থেকেও তাঁকে চলে যেতে হয়। প্রায় ১৯ বছর পর আবার কলকাতায় ফিরেছেন তসলিমা। আর ফিরেই ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে তোপ দেগেছেন তিনি।

রবিবার বাংলা আকাদেমিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা অননুমোদিত খারিজি মাদ্রাসা বন্ধ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি)-র পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিগত ও বর্তমান রাজ্য সরকারের ভূমিকার তুলনা টেনে তিনি বলেন, "একটি সরকার (বামফ্রন্ট) আমাকে এখান থেকে তাড়িয়েছিল, পরের সরকার (তৃণমূল) ফিরতে দেয়নি, আর বর্তমান সরকার (বিজেপি) আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। পার্থক্য এখানেই।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার ভিন্ন মত প্রকাশ ও বাকস্বাধীনতাকে রক্ষা করবে।

রাজ্য সরকারের অননুমোদিত খারিজি মাদ্রাসা তুলে দেওয়ার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে লেখিকা বলেন, মাদ্রাসাগুলিতে মৌলবাদ ও অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা শেখানো হয়, যার ফলে সেখান থেকে পড়া ছাত্ররা কাজের সুযোগ না পেয়ে সমস্যায় পড়ে। তাই তিনি মাদ্রাসা তুলে দিয়ে সাধারণ সেকুলার স্কুল তৈরির পক্ষে।

একইভাবে, ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমর্থনে তসলিমা বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি "এক দেশ, এক আইন"-এর পক্ষে কথা বলছেন। ধর্মীয় আইনের অধীনে মহিলারা তাঁদের প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতে সংখ্যালঘু ও সাধারণ মহিলাদের আইনি বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপমহাদেশে নারীদের সুরক্ষায় ইউসিসি অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তসলিমা জানান, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে সেখানে মৌলবাদী ও জেহাদি শক্তি ক্ষমতা দখল করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা বা নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকে তিনি রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিকভাবে সমর্থন করেন না বলে স্পষ্ট জানান।

নিজের দেশে ফেরা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী না হলেও, তসলিমা আকুল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন-আগামী কলকাতা বইমেলায় তিনি যেন আগের মতোই স্টলে বসে পাঠকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ek Jhalak