Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ফের ইউরোপে বড়সড় শরণার্থী সংকট! সমুদ্র পেরিয়ে স্পেনের সীমান্তে ঢুকছে পিলপিল করে মানুষ

ফের ইউরোপে বড়সড় শরণার্থী সংকট! সমুদ্র পেরিয়ে স্পেনের সীমান্তে ঢুকছে পিলপিল করে মানুষ

এক ঝলক 2 weeks ago

২০১৫ সালের পর ফের ইউরোপে বড় আকারের শরণার্থী সংকটের কালো ছায়া। মরক্কো থেকে সমুদ্র সাঁতরে ও সীমান্তে কাঁটাতার ভেঙে হাজার হাজার আফ্রিকান অভিবাসী প্রবেশ করেছে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বশাসিত শহর সেউতায় (Ceuta)। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই চরম যে, শৃঙ্খলা ফেরাতে স্পেন সরকারকে স্থলসেনা, বিমান ও নৌবাহিনী মাঠে নামাতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে হঠাৎ সমুদ্র গর্ভ থেকে উঠে পিলপিল করে হাজার হাজার মানুষকে স্পেনের সীমানার দিকে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। 'Viva Espana' (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিতে দিতে সীমান্ত ভেঙে স্পেনে ঢুকে পড়ে তারা। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপজ্জনক যাত্রায় অন্তত ১৮ জন শরণার্থী সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই শহরের নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তাঘাট দখল করে নিয়েছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৯,০০০০০ (মতান্তরে ৪৯ হাজার) মানুষ অবৈধভাবে স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেউতায় প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়েছে। ঢুকতে পরাদের মধ্যে সিংহভাগই তরুণ পুরুষ হলেও, অনেক নারী ও শিশুও রয়েছে। অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রগুলি নিমেষেই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় শহরের খোলা রাস্তায় শত শত মানুষকে রাত কাটাতে হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান রাচিদ সবিহি পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, "সীমান্ত রক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং চারদিকে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।"

কেন কেন্দ্রবিন্দুতে সেউতা? ভৌগোলিকভাবে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত হলেও সেউতা এবং মেলিলা শহর দুটি স্পেনের অধীনস্থ স্বশাসিত অঞ্চল। আফ্রিকা মহাদেশের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরাসরি যুক্ত থাকার এটিই একমাত্র স্থলসীমান্ত। ফলে উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় প্রতি বছর ইউরোপে পাড়ি জমাতে চাওয়া শরণার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে এই সীমান্ত। দীর্ঘদিন ধরে মরক্কো এই অঞ্চলের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসায়, অভিবাসন নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক সর্বদাই উত্তপ্ত।

এর আগেও ২০২১ সালে দু'দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেউতায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল এবং ২০২২ সালে পদপিষ্ট হয়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর ইউরোপের অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। এমনকি স্পেনের এই সংকটের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনকে 'শেনজেন মুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থা' থেকে বাইরে রাখার দাবি তুলেছেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ek Jhalak