মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। সেখানে ডিজি-কে সামনে পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন চন্দ্রনাথের স্ত্রী।
প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণায় খুনিদের সরাসরি 'এনকাউন্টার'-এর দাবি জানান তিনি।
তদন্তে মিলল রহস্যময় গাড়ি ও ভুয়ো নম্বরপ্লেট
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি চারচাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটির নম্বরপ্লেট শিলিগুড়ির হলেও সেটি সম্ভবত ভুয়ো। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু কার্তুজ ও গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। ডিজি জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু খোলসা করতে চায়নি পুলিশ প্রশাসন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও উত্তপ্ত মধ্যমগ্রাম
এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যমগ্রাম এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতেও হাসপাতালের সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে বিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই হামলায় চন্দ্রনাথের গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চন্দ্রনাথের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পেশাদার এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

