Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
তোলাবাজিমুক্ত বাংলা গড়াই লক্ষ্য! ছাত্র সংসদ ও পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধের কড়া পরামর্শ!

তোলাবাজিমুক্ত বাংলা গড়াই লক্ষ্য! ছাত্র সংসদ ও পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধের কড়া পরামর্শ!

এক ঝলক 2 weeks ago

রাজারহাট: সম্প্রতি রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কের এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও তোলাবাজি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

নিজের দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে শমীকবাবু অকপটে স্বীকার করেছেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেও রাজ্য থেকে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি নেতাকর্মীরা যদি সতর্ক ও সংযত না হন, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁদেরও 'ডিম থেরাপি'র শিকার হতে হতে পারে।

তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের শিকড় কোথায়?

রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতির মূল উৎস তিনটি জায়গায় নিহিত:

  • কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ
  • ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা
  • পৌরসভা বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন

বাম জমানা থেকে শুরু করে তৃণমূল আমল-প্রতিটি শাসকদলের সময়েই এই তিন স্তরে ক্ষমতার আধিপত্য বজায় রাখতে রাজনৈতিক হিংসা ও অনাচার চরম আকার ধারণ করেছে।

'বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়' বন্ধের বড় প্রস্তাব

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটে বিরোধী প্রার্থীদের দাঁড়াতে না দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হাসিল করাই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের প্রধান চালিকাশক্তি।

  • ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোট: প্রায় ৩৪ শতাংশ (২০,০৭৬টি) আসনে শাসকদল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
  • ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোট: একইভাবে ত্রিস্তরে ৮,০০৯টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নথিভুক্ত হয়।

স্থায়ী সমাধানের পথ কী?

বাংলাকে সত্যিই তোলাবাজিমুক্ত করতে হলে নির্বাচনী আইনে আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

  • পঞ্চায়েত ও পুরভোটের আইন সংশোধন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভের নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করা উচিত
  • যেসব আসনে কোনো প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতবেন, সেখানে কাউকে জয়ী না ঘোষণা করে সাময়িকভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা দরকার। পরবর্তীতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে ফের সেখানে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের আত্মসমীক্ষামূলক এই বক্তব্য যদি বিজেপি নেতৃত্ব বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে, তবেই রাজ্য রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের আশা করা সম্ভব।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ek Jhalak