পণের দাবিতে গৃহবধূর ওপর অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগে ফিরোজাবাদে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মথুরার বাসিন্দা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এক তরুণী। তাঁর দাবি, স্বামী তাঁকে জোর করে মদ্যপান করিয়ে দিনের পর দিন অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। এমনকি তাঁকে খাবার ও জল না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরে বন্দি করে রাখা হতো।
পণের দাবিতে চরম লাঞ্ছনা
উত্তর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর মথুরার এক যুবকের সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ১০ লক্ষ টাকা পণের দাবিতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাসুর ও জা-সকলেই টাকার জন্য তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করতেন বলে ওই তরুণী জানিয়েছেন।
অস্বাভাবিক যৌনচারের অভিযোগ
গৃহবধূর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন এবং তাঁকে জোর করে মদ পান করতে বাধ্য করতেন। এতে বাধা দিলে চলত বেধড়ক মারধর। এরপর তাঁকে দিয়ে জোরপূর্বক অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক করানো হতো। শুধু তাই নয়, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে তাঁকে প্রতিনিয়ত কটু কথা শুনতে হতো বলেও পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
তরুণীর দাবি, নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। প্রথমে মথুরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাপের বাড়িতে ফিরে এসে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় ফিরোজাবাদ পুলিশের দ্বারস্থ হন।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ইনস্পেক্টর অনজিশ কুমার জানিয়েছেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

