Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Annapurna Yojana                                                                                    অন্নপূর্ণা টাকা না মেলায় ক্ষোভে উত্তাল ধূপগুড়ি, ৩২ কর্মীকে শোকজে ক্ষুব্ধ কর্মচারী সংগঠন

Annapurna Yojana অন্নপূর্ণা টাকা না মেলায় ক্ষোভে উত্তাল ধূপগুড়ি, ৩২ কর্মীকে শোকজে ক্ষুব্ধ কর্মচারী সংগঠন

ন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সময়মতো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না পড়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল ধূপগুড়ি পৌরসভা চত্বর। প্রকল্পের সুবিধা না পেয়ে স্থানীয় মহিলারা এদিন পৌরসভায় এসে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিধায়ককেও ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, শুক্রবার ধূপগুড়ি পৌরসভার ৩২ জন কর্মীকে শোকজ করলেন পৌর প্রশাসক তথা মহকুমা শাসক। বৃহস্পতিবার অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় ক্ষুব্ধ মহিলারা পৌরসভায় জড়ো হন। অভিযোগ, পরিষেবা পেতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বিধায়ক এবং পৌরকর্মীরা হেনস্থার মুখে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার পৌরসভার যে সমস্ত কর্মী সরাসরি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের শোকজ করা হয়েছে। পৌরসভা সূত্রে খবর, বিশেষত যেসব কর্মী ফর্ম যাচাই-এর দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই কাজে গাফিলতি এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আগামী ৪ জুলাই, শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে সমস্ত নথিপত্রসহ এসডিও-র সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, নিয়ম অনুযায়ী কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এই শোকজ নোটিশকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কর্মচারী সংগঠন। অল বেঙ্গল মিউনিসিপ্যালিটি ওয়ার্কম্যানস ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ বলেন, ''সরকারি নির্দেশ মেনে আমাদের কর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। নতুন প্রকল্পের চাপ সামলাতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত ছিল কর্মীদের সাথে কথা বলে প্রকৃত সমস্যাটি বোঝা। আলোচনা না করেই একতরফা শোকজ করা অনভিপ্রেত। আমরা এই শোকজ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।''
প্রশাসনিক চাপের মুখে কর্মীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোয় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে কর্মচারী সংগঠনের প্রতিবাদ, এই পরিস্থিতিতে পৌর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ধূপগুড়ি।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা সরকারি তহবিল থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় ধৈর্য হারিয়ে শুক্রবার দুপুরে লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তীব্র বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। এক পর্যায়ে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় সড়কেও। চালসা ময়নাগুড়ি জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়।

বিক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডকপি ফর্মগুলি দীর্ঘ সময় ধরে জমা দিলেও তা এখনও ডেটাবেসে এন্ট্রি করা হয়নি। তাদের দাবি, প্রশাসনের গাফিলতি ও কাজের অত্যন্ত ধীরগতির কারণেই উপভোক্তারা এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর পর ক্ষুব্ধ মহিলারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। উপভোক্তাদের একটাই দাবি, কালবিলম্ব না করে দ্রুত তাদের বকেয়া টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে ক্রান্তি ব্লক প্রশাসন। আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনার রেশ কাটেনি। অবরোধ উঠে গেলেও উপভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত কাজ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিন লাটাগুড়ির পাশাপাশি বানারহাট ব্লকের সাঁকোয়াঝোড়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলারা ভিড় জমিয়েছিল। তাদেরও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকেনি। যার কারণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আবেদনকারী মহিলারা দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ganashakti