Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Elephant                                                                                    ডুয়ার্স জুড়ে হাতির তাণ্ডব, স্কুল চত্বরে হাতির পাল!

Elephant ডুয়ার্স জুড়ে হাতির তাণ্ডব, স্কুল চত্বরে হাতির পাল!

বাইসনের পর এবার হাতি। ডুয়ার্স জুড়ে হাতির তাণ্ডবে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল ধূপগুড়ি মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায়। চা-বাগান, পিচ রাস্তা পেরিয়ে হাতির পাল ঢুকে পড়ল সরাসরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অন্যদিকে, লোকালয়ে ঢুকে পড়া জোড়া হাতির জেরে দিনভর তটস্থ রইল মাগুরমারি এলাকা। এক সকালেই চা-বাগান থেকে শহর, স্কুল থেকে বাজার-সর্বত্র হাতির এই অনুপ্রবেশ ও তাণ্ডবকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের ভয়াবহ চিত্রটা ফের একবার সামনে চলে এল।

ভোরের আলো ফোটার আগেই এদিন আতঙ্ক ছড়ায় বানারহাট ব্লকের তেলিপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলায় প্রথমে হলদিবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা একটি হাতির দলকে দেখতে পান। সেখান থেকে চা-বাগানের সরু পথ ধরে, পিচ রাস্তা পেরিয়ে হাতির দলটি ঢুকে পড়ে তেলিপাড়া ও কালুয়া কলোনি এলাকায়। এরপর সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে শেষ পর্যন্ত তারা ঢুকে পড়ে তেলিপাড়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে।
বিদ্যালয় চত্বরে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে শাবকসহ গোটা হাতির দলটি। শাবকদের নিরাপদে আগলে রেখে স্কুলের বারান্দার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল পূর্ণবয়স্ক হাতিরা। সৌভাগ্যবশত, তখনও স্কুল খোলেনি। ফলে এক মস্ত বড় দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেয়েছে খুদে পড়ুয়ারা।
এদিকে ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব মাগুরমারির ক্লাব পাড়া এলাকাতেও এদিন সকালে জোড়া হাতির দেখা মেলে। পার্শ্ববর্তী সোনাখালী জঙ্গল থেকে খাবারের সন্ধানে প্রতিনিয়ত হাতির দল লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিনও খাবারের খোঁজে রাতভর এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় দুটি হাতি। গিলান্ডি নদী পেরিয়ে তারা ক্লাব পাড়া এলাকায় চলে আসে। কিন্তু ভোরের আলো ফুটে যাওয়ায় তারা আর জঙ্গলে ফিরে যেতে পারেনি, ওই এলাকার একটি ঝোপঝাড় সংলগ্ন ঘন জঙ্গলে আশ্রয় নেয়।
সাতসকালে হাতির গর্জন শুনে বাইরে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফাঁকা রাস্তায় বন্ধ দোকানের শাটারের সামনে এবং ঝোপের আড়াল থেকে হাতিকে উঁকি দিতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সকলে। মূহুর্তের মধ্যে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায় এলাকায়। ঘটনার খবর দেওয়া হয় বনদপ্তর এবং পুলিশকে। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখা ও সোনাখালী বিটের বনকর্মীরা। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সোনাখালী জঙ্গল থেকেই ওই দুটি হাতি লোকালয়ে চলে এসেছিল। দিনভর তাদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হয়। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর ড্রাইভের মাধ্যমে হাতিদুটিকে পুনরায় জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
​প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বর্ষার শুরুতে জঙ্গলে খাদ্যের তীব্র অভাব এবং প্রাচীন হাতির করিডোর বা যাতায়াতের পথগুলি অবৈজ্ঞানিক ও যত্রতত্র নির্মাণের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে দিশেহারা হয়েই হাতির দল লোকালয়, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বনদপ্তরের নজরদারির অভাবেই বন্যপ্রাণী বারবার লোকালয়ে চলে আসছে। চা-বাগান থেকে শহর-সর্বত্র হাতির এই অনুপ্রবেশ মানুষ-হাতি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান না হলে এই আতঙ্ক যে আগামী দিনে আরও মারাত্মক রূপ নেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ganashakti