Dailyhunt
Mamata Banerjee                                                                                    মমতার বার্তায় বিস্ময়, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সিল আগেই,  দাবি কমিশনের

Mamata Banerjee মমতার বার্তায় বিস্ময়, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সিল আগেই, দাবি কমিশনের

বানীপুরের গণনা কেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। রাত বারোটার পর গণনা কেন্দ্র ছাড়েন তিনি। সংবাদ মাধ্যমে জানান যে 'ইভিএম ম্যানিপুলেশনের' খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন।এদিকে গণনার তিনদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে রীতিমত ভিডিও বার্তা দিয়ে দলীয় কর্মীদের তিনি 'না বলা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র না ছাড়ার' আবেদন জানালেন মমতা ব্যানার্জি।

যা দলের প্রবীণ নেতাদের কাছে 'বেনজির ব্যাপার'! মমতা ব্যানার্জি বার্তা দেওয়ার আগেই গণনাকেন্দ্রে থাকা তৃণমূলের লোকজন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যাবে কেন, স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নও দলীয় অন্দরে। এদিন দুপুরে মমতা ব্যানার্জির এই ভিডিও বার্তা কোনও আশঙ্কার চোরাস্রোতেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের দিনের থেকেও গণনার দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এটা ২০১৩'র পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই এরাজ্যের বাস্তবতা। ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রে লুট, জয়ী প্রার্থীকেও জোর করে হারিয়ে দেওয়া, শংসাপত্র না দিতে দেওয়া, ব্যালট পর্যন্ত চিবিয়ে খাওয়া, ব্যালটবাক্স রাস্তায় ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের তীর ছিল তৃণমূলের দিকে। এমনকি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়-২ ব্লকের কাঁঠালিয়া হাইস্কুলে গণনাকেন্দ্রে সিপিআই(এম) ও আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায় তৃণমূল মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা। গুলি করে তিনজন গ্রামবাসীকে খুন করা হয়। ফলে গণনাকেন্দ্রে লুটের আশঙ্কার যে ছবি গত এক দশকে এই বাংলায় দেখা গেছে সেই আশঙ্কার সুর এখন মমতা ব্যানার্জির গলায় কেন, তা কি স্রেফ দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় বলেন, "সকলকে ইভিএম পাহারা দিতে হবে। আমার এলাকায় পাহারা দেব আমি। ২৯৪ আসনের প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। দিনের বেলায় কর্মীরা নজর রাখবে, রাতে প্রার্থীরা নজর রাখবে। সারা রাত রাখতে হবে। আমার কেন্দ্রে আমি পাহারা দিলে বাকিরা কেন পারবে না?'' শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ''কাউন্টিংয়ে যোগ্য লোক দিতে হবে। আমি যতক্ষণ না ৪ তারিখে প্রেস কনফারেন্স করে বলব, তার আগে কেউ যেন কাউন্টিং হল না ছেড়ে যায়। আমি নিজেও আমার কাউন্টিং সেন্টারে হানা দেবো। কাউন্টিংয়ের সময় ওয়াশরুমে যাওয়ার হলেও তখন অন্য কাউকে যেন বসিয়ে রাখা হয়। দু'মিনিটের বেশি ওয়াশরুমে নয়।''
মমতা ব্যানার্জির এই ভিডিও বার্তার পরেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা বাহিনী নিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। উত্তেজনার পরিস্থিতিও তৈরি হয় রাতে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই স্ট্রংরুমে ভিতরে যেখানে ইভিএম মেশিন রয়েছে, সেখানে একাধিক লোক রয়েছে।
এদিকে রাত প্রায় বারোটা নাগাদ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে ফেরেন মমতা ব্যানার্জি। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, 'ইভিএম ম্যানিপুলেশনের খবর পাওয়া মাত্র এসেছি'। তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতে দিচ্ছিল না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী ঢুকতে পারেন।'
এদিকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগকে 'ভুয়ো' বলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ৭ টি স্ট্রং রুম রয়েছে। সবকটি বন্ধ করা রয়েছে। নির্বাচন এজেন্টের সামনে ঘর সিল করা হয়। সেই সময় পর্যবেক্ষকরাও ছিলেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Ganashakti