'কত গোল দেবে মোহনবাগান?'-মঙ্গলবার যুবভারতীতে আসার পথে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই প্রশ্নই। অশোকনগর থেকে ট্রেনে চেপে আসা কয়েকজন সমর্থক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলছিলেন, 'হাফ ডজন তো হবেই।' শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল পানাজিওটিস দিলমপেরিসের দল।
মনবীর সিংয়ের দুরন্ত হ্যাটট্রিকের সঙ্গে আলবার্তো রদ্রিগেজ, রাহুল ভেকে, আত্মঘাতী গোল এবং বদলি সুহেলের জোড়া গোলে সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৮-০ উড়িয়ে দিয়ে ডুরান্ডের নকআউটে মোহনবাগান।
মফস্বল থেকে শহরে এসে প্রিয় দলের গোল বন্যা তাঁদের খুশি করেছে! পয়সা উসুল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়! ডুরান্ড কাপের মতো দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার যেন ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে! কয়েকদিন আগেই সিআইএসএফ প্রোটেক্টরকে আট গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এবার সাউথ ইউনাইটেডকে অনায়াসে আটটা গোল দিল মোহনবাগান।
যদিও সাউথ ইউনাইটেড অন্তত লড়াই করেছে। ছোট ছোট পাসে বিল্ড-আপ করেছে, সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। দূরপাল্লার শট নিলেও বিশাল কাইথকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। কিন্তু দুই দলের মানের ফারাক এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, ম্যাচের ফল নিয়ে কোনও মুহূর্তেই সংশয় তৈরি হওয়ার জায়গাই নেই।
মঙ্গলবার রাঁচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জামশেদপুর এফসি-এস সি দিল্লি ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ল কলকাতায়, মোহনবাগান-সাউথ ইউনাইটেড এফসি ম্যাচ শুরু হলো কুড়ি মিনিট দেরিতে। ম্যাচের আগের দিনই একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোহনবাগানের গ্রিক কোচ। সেই মতোই প্রথম একাদশে শুরু করলেন আলবার্তো রদ্রিগেজ ও সার্বিয়ান উইঙ্গার ডেজান ড্রাজিচ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সবুজ-মেরুন।
মাত্র ৪ মিনিটেই সাহাল আব্দুল সামাদের নিখুঁত পাশ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মনবীর। ছয় মিনিট পর অনিরুদ্ধ থাপার কর্নার থেকে দুরন্ত হেডে ব্যবধান বাড়ান আলবার্তো। ১১ মিনিটে ড্রাজিচের দুর্দান্ত ক্রসে সাহালের হেড লক্ষ্যে থাকলে আরও একটি গোল হতে পারত। ১৩ মিনিটে চোট থাকা আপুইয়ার পরিবর্তে খেলা দীপক টাংরির ভুল ব্যাকপাসে অল্পের জন্য আত্মঘাতী গোল এড়ায় মোহনবাগান।
১৯ মিনিটে আবারও ড্রাজিচের নিখুঁত সেন্টার থেকে হেডে গোল করেন রাহুল ভেকের। তিন মিনিটের মধ্যেই লিস্টনের পাস থেকে সাহাল এবং তাঁর বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন মনবীর। ৪-০ এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা গতি কমিয়ে দেয় মোহনবাগান। তবে বিরতির আগে একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। ৪৪ মিনিটে সাহালের পাস থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর। পরের মিনিটেই থাপার পাসে লিস্টনের শট বাইরে যায়। প্রথমার্ধে সাহাল ও মনবীর- দু'জনেরই একটি করে প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। ৪৮ মিনিটে মনবীরের শট বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক সুনীল সিং। ৫৩ মিনিটে আলবার্তোর জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। অবশেষে ৬০ মিনিটে থাপার কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন মনবীর।
৬৯ মিনিটে ড্রাজিচের সেন্টার ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন নোয়েল এস। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-০। শেষ দিকে নজর কাড়েন বদলি সুহেল। ম্যাচে নামার পর প্রথম তিনটি সুযোগ নষ্ট করলেও হাল ছাড়েননি। সাহালের ডিফেন্স-চেরা থ্রু থেকে প্রথম গোলটি করেন। এরপর সায়নের বাড়ানো বল থেকে দ্বিতীয় গোল করে দলের অষ্টম গোল পূর্ণ করেন। গোল দু'টি নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে।
আট গোল, অসংখ্য আক্রমণ, পোস্টে লেগে ফিরে আসা একাধিক শট- সহজেই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। তবে এই ম্যাচ আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ডুরান্ড কাপের মান নিয়ে ভাবার সময় হয়তো এসে গিয়েছে।
মোহনবাগান: বিশাল, শুভাশিস, আলবার্তো, রাহুল, অভিষেক (আশিস), টাংরি(সূর্যবংশী), ড্রাজিচ (সায়ন), সাহাল, লিস্টন(কিয়ান), মনবীর(সুহেল)

